‘অপ্রিয় সত্যি বলে ফেললে প্রিয়পাত্রী হওয়া যায় না’

‘অপ্রিয় সত্যি বলে ফেললে প্রিয়পাত্রী হওয়া যায় না’

সিভিতে ছ’টা ছবি। কেরিয়ারে এক বছরের লম্বা বিরতির পর কামব্যাক। ঝুলিতে সম্বল বিশিষ্টজনের প্রশংসা আর আত্মবিশ্বাস। এ সব নিয়েই নিজের জার্নিতে খুশি তিনি। তিনি সায়নী দত্ত।

আজ মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক রাজীব চৌধুরীর ছবি ‘কায়া’। সেখানে সায়নী রয়েছেন এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের চরিত্রে। ছবির গল্প অনুযায়ী কৌশিক সেন এক চলচ্চিত্র নির্মাতার ভূমিকায়। তাঁর প্রধান সহকারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রিয়ঙ্কা সরকার। আর সদ্য কাজে যোগ দেওয়া সহকারীর ভূমিকায় সায়নী।

অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘রেইকি করতে যাওয়া থেকে গল্পের শুরু। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতে আসা একটা মেয়ের কত সমস্যা, কত ভয় কাজ করে সে সব রয়েছে এই চরিত্রের মধ্যে। প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রি, বন্ধুত্বের সম্পর্কও দেখানো হয়েছে।’’

দিন কয়েক আগেই মুক্তি পেয়েছে সত্রাজিত্ সেনের ছবি ‘মাইকেল’। এক বছরের বিরতির পর সেটাই ছিল সায়নীর কামব্যাক ফিল্ম। ফিডব্যাক কেমন? সায়নী শেয়ার করলেন, ‘‘মাইকেলে আমার চরিত্রের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। সৌমিত্র জেঠু আর মীরের সঙ্গেই আমার বেশিরভাগ সিন ছিল। আসলে ডিরেক্টররা সবসময় আমাকে সিরিয়াস ছবি করতে বলেন। মাইকেলে কমেডি করেছি বলে হয়তো এত প্রশংসা পাচ্ছি।’’

‘মাইকেল’ হোক বা ‘কায়া’— বহু সেলেবের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে কখনও ভয় লাগে না? কনফিডেন্ট সায়নীর ব্যাখ্যা, ‘‘আমি বিশ্বাস করি আমার কপালে যা লেখা আছে তাই হবে। আমাকে ভালও বলতে পারে, খারাপও বলতে পারে।’

কিন্তু এক বছরের ব্রেক নিতে হল কেন? সায়নীর দাবি, ‘‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনও কনট্যাক্ট নেই। যেটুকু কাজ পেয়েছি ওয়ার্ড অফ মাউথে। কাউকে কাজের কথা বলিও না। সে জন্যই হয়তো গ্যাপটা বেড়ে গিয়েছিল।’’

ওই ব্রেকে ছবি এঁকে সময় কেটেছে নায়িকার। ছবির এক্সজিবিশন করেছেন। আবার শো স্টপার হয়ে র‌্যাম্পেও হেঁটেছেন। তবে এসব সত্ত্বেও, অভিনয়টাই সবচেয়ে বেশি এনজয় করেন সায়নী।

জানেন সদ্য ববের সঙ্গে একটা বিজ্ঞাপনের কাজ করলাম। বব এখন বিজ্ঞাপন জগতের প্রথম সারির নাম। আমার কাজ দেখতে চাইছিলেন, আমি মাইকেলের একটা ক্লিপিং দেখালাম। আমাকে বললেন, তুমি অন্য কিছু না করে অভিনয়টাই কর। এই কমপ্লিমেন্টটাই একটা দারুণ অভিজ্ঞতা’’ আড্ডার সূত্র ধরিয়ে দিলেন সায়নী।

ছবি করতে হবে বলে যে কোনও ছবি করা তাঁর না পসন্দ। সে জন্যই এই মুহূর্তে পাইপলাইনে কোনও ছবি নেই। বরং বেশ কয়েকটা হিন্দি ওয়েব সিরিজের কথা চলছে বলে জানালেন অভিনেত্রী। তবে বলিউডে কাজ এলেও কলকাতা ছেড়ে যাবেন না সায়নী। কারণ? ‘‘ইন্ডাস্ট্রিতে আবেগপ্রবণ না হওয়াই ভাল। বলিউডে একটা কাজের পর যদি আর কাজ না পাই? তখন কী হবে?’’ বুঝিয়ে দিলেন শিকড় ছেড়ে যাবেন না কখনও।

ইন্ডাস্ট্রিতে সায়নীর কোনও বন্ধু নেই। সকলের সঙ্গেই প্রফেশনাল সম্পর্ক। সোজাসুজি কথা বলেন বলে নাকি তাঁর কাজ পেতেও সমস্যা হয়েছে। হেসে বললেন, ‘‘মুখের ওপর যে কথা বলে সে সবসময় অপ্রিয়ই থাকে, কখনও প্রিয় হতে পারে না।’’

 

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট