অভিনয়ে ২৫ বছর!

অভিনয়ে ২৫ বছর!

১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর। মুক্তি পায় এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’। এহতেশামের ছবি মানেই ভিন্নকিছু। ব্যবসাসফল। কিন্তু এই ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে। এতো সুন্দর ছবি, অথচ ব্যবসা নেই। তবে ব্যবসা না করলেও এই ছবির নবাগত নায়িকাকে কেন্দ্র করে বেশ অালোচনার জন্ম নিল। মেয়েটা খুব ভালো নাচে। অভিনয়ও ভালো। ছবি হিট হয়নি তো কি হয়েছে নবাগত এই নায়িকার হাতে আসতে থাকলো একের পর এক ছবি। পরের বছরই তিনি উপহার দিলেন সুপারহিট ছবি।  এই নায়িকার নাম শাবনূর। ‘চাঁদনী রাতে’ ছবির মাধ্যমেই তার অভিষেক। বিপরীতে ছিলেন নায়ক সাব্বির। আজ এই নায়িকা পার করলেন অভিনয়ের ২৫ বছর।

বেশিরভাগ নায়িকা যেখানে পাঁচ বছরের মাথাতেই হারিয়ে যান, ছিটকে পড়েন সেখানে শাবনূর ২৫ বছর পরও সমান জনপ্রিয়। এখনো অনেক পরিচালকই ভাবেন শাবনূরকে নিয়ে যদি ছবি নির্মাণ করা যেত!

১৯৭৯ সালের   ১৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহন করেন শাবনূর। ১৯৯৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে পদার্পন ঘটে তার। সমালোচকদের মতে, ৯০ দশক থেকে এ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পদার্পন করা চলচ্চিত্র তারকাদের মধ্যে শাবনূর সবচেয়ে জনপ্রিয়।

ঢাকাই ছবির ইতিহাসে সর্বািধিক জনপ্রিয় জুটি হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে সালমান-শাবনূর জুটির। তাদের জুটি এতোটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, সালমানের ক্যারিয়ারের ২৭টি ছবির মধ্যে ১৪টি ছবিই শাবনূরের সঙ্গে। যদিও শাবনূরের প্রথম সুপারহিট হওয়া জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ ছবিতে নায়ক ছিলেন সালমান শাহ।

১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিন্দুকরা ভাবতো সালমান আছে বলেই শাবনূর এতো জনপ্রিয়। কিন্তু কথাটি ভুল ছিল। সালমানের মৃত্যুর পর একাধিক নায়কের সঙ্গে কাজ করেন শাবনূর। একটা পর্যায়ে শাবনূরের নামেই ছবি চলত।

শাবনূর রিয়াজ, শাকিল খান, ফেরদৌস ও শাকিব খান এর সাথে জুটি গড়ে অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন। মান্না ও আমিন খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেও তিনি সফল হন।

তবে ২০১০ সালের পরে ধীরে ধীরে ছবি করা কমিয়ে দেন শাবনূর। ২০১৩ সালে সর্বশেষ ছবি করেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘কিছু আশা, কিছু ভালোবাসা’ ছবিতে। এরপরেই তিনি চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। অবশ্য এর আগেই মুটিয়ে যান তিনি। মুটিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি আর নতুন কোন ছবিতে কাজ করেননি। ২০১৩ সালেই শাবনূরের বিয়ের খবর বেরিয়ে আসে মিডিয়ায়। সে বছরের ডিসেম্বরে জন্ম নেয় একমাত্র সন্তান আইজান নেহান। বিয়ে, সংসার বাচ্চা লালন পালনের কারণে ২০১৩ সালের পর নতুন কোন ছবিতে অংশ নেননি শাবনূর।  তবে ২০১৫ সালে অসমাপ্ত ছবি ‘পাগল মানুষ’ এর একটি গানের শুটিংয়ে অংশ নেন।

শাবনূর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- সুজন সখি (১৯৯৪), স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬), তোমাকে চাই (১৯৯৬), আনন্দ-অশ্রু (১৯৯৭),  মন মানেনা (১৯৯৭) নারীর মন (২০০০), স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাবনূর অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘দুই নয়নের আলো’ ছবিতে অভিনয় করে তার ক্যারিয়ারের একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে রেকর্ড পরিমান ১০ বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও লাভ করেন শাবনূর।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট