অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আর দেখা যাবে না ওয়ার্নারকে!

অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আর দেখা যাবে না ওয়ার্নারকে!

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে বল টেম্পারিং চেষ্টায় ধরা পড়েন ক্যামেরন ব্যানক্রাফট। দলের অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ সেদিনই এর দায় স্বীকার করে নেন। পরবর্তীতে উঠে আসে সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের নামও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) তদন্তে তাকেই পরিকল্পনাকারী বলা হয়। যার কারণে তিন ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলশ্রুতিতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এবারের আসরেও অংশ নিতে পারবেন না তারা। ওয়ার্নার আর কখনো অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া ফেরার পথে টুইট করে আগেই ভক্ত ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ওয়ার্নার। স্মিথ ও বেনক্রাফট সংবাদ সম্মেলেন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ক্ষমা চাইলেও সেদিন মিডিয়ার সামনে আসেননি তিনি। ওয়ার্নার জানিয়েছিলেন শনিবার সংবাদ সম্মেলন করবেন।

শনিবার ওয়ার্নার জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি বুঝতে পারছি যে, আমার কাজের জন্য আমি দায়ী। এটা জানতে পারাটা হৃদয়বিদারক যে, আমি আমার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নামতে পারবো না। যেটা আমি ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমি আবার আমার দেশের হয়ে খেলতে পারবো এই আশাটাও এখন আমার একেবারেই ক্ষীণ। আমি জানি, এটা আর নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সকলের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আশা করি আমি আবার আপনাদের সম্মান অর্জন করতে পারব। জানি এর জন্য দীর্ঘ সময় লাগবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার বন্ধুরা ম্যাচ খেলছে আর আমি এখানে বসে বসে তা দেখছি। এটা আমার কাছে অনেক কঠিন। ওখানে আজ আমার থাকার কথা ছিল। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল আমার পরিবার। তৃতীয় দিন যা ঘটেছে তা নিয়ে আমার অনুশোচনা হচ্ছে।

সাবেক এ সহ অধিনায়ক বলেন, একটা ক্ষুদ্র আশা আছে যে আমি হয়তো আবারও আমার দেশের হয়ে খেলব। কিন্তু আমি পদত্যাগ করেছি এ কারণে যে আমি আর কখনোই খেলব না! আসন্ন সপ্তাহ ও মাসগুলোতে আমি চিন্তা করবো কিভাবে এটা বাস্তবায়ন করা যায় এবং আমি মানুষ হিসেবে কেমন সেটাও দেখবো। অনেক বড় পরিবর্তনের জন্য আমি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ নিব।

বল টেম্পারিংয়ের পুরো ঘটনার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ডেভিড ওয়ার্নারকে ‘নাটের গুরু’ বলেছে! ওয়ার্নারও অকপটে তা স্বীকার করেছেন, আমি আগেও বলেছি আমি আজ এখানে এসেছি বল টেম্পারিংয়ে আমার ভূমিকা জানাতে। আমি আমার ভূমিকার পুরো দায়িত্বটা নিজ কাঁধে নিচ্ছি। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি সহ-অধিনায়ক হিসেবে আমার ভূমিকা পালন করতে পারিনি।

আমি আমার পরিবার, বিশেষ করে আমার স্ত্রী এবং মেয়েদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। স্ত্রী ক্যানডিসকে উদ্দেশ্য করে ওয়ার্নার বলেন, তোমার ভালোবাসা আমার কাছে অন্য সবকিছুর থেকে উর্ধ্বে। আমি জানি তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই নই। তোমাকে আজ এ পরিস্থিতিতে ফেলানোর জন্য আমি দায়ী। আমি শপথ করছি এমন কাজ দ্বিতীয়বার আর হবে না।

ওয়ার্নার তার সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হয়ত তার আর খেলার সুযোগ নাও মিলতে পারে। এই ঘটনা ও ডারবান টেস্টে কুইন্টন ডি ককের সাথে তার ঝামেলার কোন সম্পর্ক আছে কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর দেননি এই বাঁহাতি ওপেনার, ডারবান টেস্টের ঘটনার পর সেদিন (কেপটাউন) আমার চিন্তাভাবনা কোন অবস্থায় ছিল তা বলা কঠিন। তবে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে যা হয়েছে এবং আমি যা করেছি তার পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি। আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং অনুতপ্ত। এটা এমন এক সিদ্ধান্ত যা সারাজীবনের আমায় বয়তে বেড়াতে হবে।

ওয়ার্নার বলেন পরিণতি কি হতে পারে তা জেনেই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছিল, আমরা পরিণতি জেনেই ভয়ংকর কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। আমি দেশকে ছোট করেছি, আমরা একটা খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি সেটার অংশ ছিলাম। অস্ট্রেলিয় জনগণের কাছে সম্মান ফিরে পেতে অনেক সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার কেপটাউন টেস্টে তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় এই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন স্মিথ। এখানে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন ওয়ার্নার। এমনকি তিনি ব্যানক্রাফটকে দেখিয়েও দিয়েছিলেন কিভাবে কাজটি করতে হবে। তাই তার শাস্তিটাও হয়েছে বাকি দুজনের তুলনায় গুরুতর। স্মিথ ও তার সমান ১বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, ব্যানক্রাফটের ৯ মাস। কিন্তু ওয়ার্নারকে আর কখনই অধিনায়কত্বের জন্য বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছে সিএ।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট