আজ কুমারী পূজা : উৎসবমুখর পূজামণ্ডপ

আজ কুমারী পূজা : উৎসবমুখর পূজামণ্ডপ

শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সারা দেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাব মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহাসপ্তমী। সকালে নবপত্রিকায় প্রবেশ ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে মহাশক্তি আনন্দময়ী দেবীর ষোড়শ উপচারে পূজা করা হয়। সেই সাথে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্থানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে দেবীর পূজা করেন ভক্তরা। এ সময় পূজামণ্ডপের পরিবেশটাই অন্যরকম হয়ে ওঠে।

সকালে পূজা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে ঢল নামে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির, স্বামীবাগের শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে দেখা যায়, মহাসপ্তমীতেই উৎসবের রঙ লেগেছে। নানা বয়সী পূজারি আর ভক্তদের ভিড় ছিল নজরে পড়ার মতো। পূজা, অর্চনা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ করা হয় দর্শনার্থীদের মধ্যে। শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই নন, সব ধর্মের দর্শনার্থীরাই অংশ নেন এ আয়োজনে। দেবী দর্শনের জন্য পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ফিরছেন রাজধানীর অনেকেই।

ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে চলছে আনন্দের মহোৎসব। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত এই আনন্দে মাতোয়ারা। শারদীয়া দুর্গোৎসবের মাধ্যমে শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায় নয়, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে সামিল হয়েছেন।

প্রতিদিন মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও আরতি প্রতিযোগিতা। এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপর পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

পুজোর তৃতীয় দিন অর্থাৎ আজ রোববার মহাষ্টমী। মহাঅষ্টমী পূজার পর হবে কুমারী পূজা। এর বড় আকর্ষণ হলো ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপে মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা। অন্যান্য বছরের মতো এবারো মহাষ্টমীতে রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। এদিন নির্বাচিতা কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুর এবং পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। তখন চারদিক মুখর হবে শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন। ভক্তদের বিশ্বাস, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা এবং নারীর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা। নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বরের আরাধনাই কুমারী পূজার শিক্ষা।

১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ জন কুমারী পূজার মাধ্যমে এর পুনঃপ্রচলন করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে। আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সাধনই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য। জগতের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অশুভের ভেদাভেদ ভুলে মায়ের কৃপা তুষ্টি লাভই মানব জীবনের মোক্ষ উদ্দেশ্য। সব রকম মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা। আগামীকাল ৭ অক্টোবর মহানবমী। এরপর ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব।

এদিকে প্রতিটি পূজামণ্ডপেই লক্ষ করা গেছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ