আত্মঘাতী গোলে রক্ষা পিএসজির

আত্মঘাতী গোলে রক্ষা পিএসজির

আত্মঘাতী গোলে কোনো মতে বাঁচল পিএসজি। শুক্রবার রাতে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ম্যাচে শেষ সময়ের যোগ হওয়া মিনিটে আত্মঘাতী গোলে প্রতিপক্ষ এতিয়ানের মাঠ থেকে হারতে হারতে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফেরে নেইমারহীন প্যারিস সাঁ সাঁ। তবে ড্র করলেও এখনো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফরাসি জায়ান্টরা।

সবশেষ ছয় ম্যাচে ছয়টিতেই জয় পেয়েছে পিএসজি। অথচ লিগ টেবিলের ৯ নম্বরের থাকা সেন্ট এতিয়ানের সঙ্গে প্রায় হেরেই বসেছিল তারা। বল দখলে এগিয়ে থেকেও এতিয়ানের রক্ষণে তেমন ভয় ধরাতে পারেনি পিএসজি। উল্টো ম্যাচের শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে যায় ফ্রেঞ্চ জায়ান্টরা।

শুক্রবার লিগ টেবিলের নবম স্থানে থেকে খেলতে নামা ইচেনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে উনাই এমেরির দল।

শিরোপার আরও কাছে যাওয়ার হাতছানিতে মাঠে নামা পিএসজিকে প্রথমার্ধে একেবারেই চেনা রূপে দেখা যায়নি। এতে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে দ্য পারিসিয়ানরা। ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন রেমি কাবেলা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় পিএসজি।

শুরুতে গোল হজম করার পাশাপাশি বিরতির আগে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দলটি। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে দ্বিতীয় বড় ধাক্কাটি খায় অতিথিরা। তাদের ফরাসি ডিফেন্ডার প্রেসনেল কিমপেম্বে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। নিজেদের খুঁজে না পাওয়ার হতাশাতেই কি-না, বিরতির আগে দুই মিনিটের ব্যবধানে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন দলটির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার হাভিয়ের পাস্তোরে ও ফরাসি ডিফেন্সিভ-মিডফিল্ডার লাসানা দিয়ারা।

বিরতি থেকে ফিরেও ছন্দে ফিরতে পারেনি পিএসজি। এক জন কম নিয়ে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলতে দেখা যায় পিএসজিকে। তবে ৬২তম মিনিটে ফরাসি মিডফিল্ডার বাম্বা খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় এমেরির দল। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে মরক্কোর ফরোয়ার্ড উসামা তান্নানের জোরালো শট ক্রসবারে লাগলে আরেক দফা বেঁচে যায় তারা।

ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগটি নষ্ট করেন কিছুক্ষণ আগে পাস্তোরের বদলি নামা এদিনসন কাভানি। পাল্টা আক্রমণে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন আনহেল দি মারিয়া। তাকে প্রতিহত করতে এগিয়ে যান গোলরক্ষক। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সুযোগ বুঝে ডান দিকে কাভানিকে বল বাড়ান। কিন্তু ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা।

এ অর্ধে বেশ কটি গোছালো আক্রমণ করেন ডি মারিয়া-কাভানিরা। কিন্তু গোলমুখ খুলছিল না। তবে তাদের মুহূমুর্হু আক্রমণের মুখে শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রাখতে পারেনি ইচেনা। যোগ করা সময়ে আত্মঘাতী গোল খেয়ে বসে স্বাগতিকরা। ওই সময় বল প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন মাথিউ দেবুচি। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুদলকে।

ড্র হলেও ফ্রেঞ্চ লিগ শিরোপা জয় পিএসজির এখন সময়ের ব্যাপার। ৩২ ম্যাচে ২৭ জয় ও তিন ড্রয়ে পিএসজির পয়েন্ট ৮৪। ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে এক ম্যাচ কম খেলা গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোনাকো।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট