আদালতের রায় ইরানের পক্ষে; কোণঠাসা আমেরিকা: রয়েছে প্রতিশোধ নেয়ার আশঙ্কা

আদালতের রায় ইরানের পক্ষে; কোণঠাসা আমেরিকা: রয়েছে প্রতিশোধ নেয়ার আশঙ্কা

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের বিচারক আব্দুল কাভি আহমাদ ইউসুফ রায় ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেছেন, “এই আদালত সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ওয়াশিংটন গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, কৃষিপণ্য ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা অবশ্যই উঠিয়ে নিতে হবে।” আদালতের রায়ে ১৯৫৫ সালে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ওই চুক্তিতে দু’দেশই বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষা করা এবং কূটনীতিকদের অধিকার বিঘ্নিত হয় এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা বলবত করে। এর প্রতিবাদে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালতও ইরানের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত চালায় এবং শেষ পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানায়। আদালতের এ রায় ইরানের জন্য অনেক বড় বিজয় এবং পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত কোণঠাসা ও একঘরে হয়ে পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার আগে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আমেরিকাকে একঘরে হয়ে পড়ার ব্যাপারে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এমন এক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান যার প্রতি ইউরোপসহ বিশ্বের অন্য প্রভাবশালী দেশ এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও সমর্থন ছিল।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই রায় মেনে চলতে আমেরিকাসহ বিশ্বের সব দেশ বাধ্য এবং চূড়ান্তভাবে রায় ঘোষণার আগে ইরানের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, আদালতের রায় যাতে চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হতে না পারে সেজন্য আমেরিকা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। ট্রাম্প প্রশাসন কোনো রাখঢাক না করেই মানবাধিকার পরিষদ, ইউনিসেফসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। এরপর থেকে অসম্ভব কিছু নয় যে বিচার আদালতসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে ট্রাম্প প্রশাসন।

যাইহোক, হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নিঃসন্দেহে প্রমাণ করেছে ইরান সঠিক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র পরিদর্শকরাও ১২টি প্রতিবেদনে স্বীকার করেছেন ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। গত সপ্তাহেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও অন্য দেশ ইরানের প্রতি সমর্থন জানায় এবং পরমাণু সমঝোতা থেকে ওয়াশিংটনের বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট