‘আনফিনিশড’ বায়োগ্রাফি চান দেশি গার্ল প্রিয়ঙ্কা!

‘আনফিনিশড’ বায়োগ্রাফি চান দেশি গার্ল প্রিয়ঙ্কা!

বক্সার মেরি কমের বায়োপিকে অভিনয় করেছিলেন। নিজের জীবনের বায়োপিক নিয়ে কোনও আভাস না দিলেও, বায়োগ্রাফিতে না নেই প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়ঙ্কা জানিয়েছেন, জীবনের সব কাজই তিনি একেবারে শেষ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পান না। কিন্তু ৩৪টি বসন্ত পেরনোর পর এখন যদি তাঁর আত্মজীবনী লেখা হয় তাতে আপত্তি নেই অভিনেত্রীর। শর্ত একটাই, আত্মজীবনীর নাম হতে হবে ‘আনফিনিশড’। অর্থাৎ অসমাপ্ত। আসলে, এখনও তাঁর অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলেই মনে করেন অভিনেত্রী।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পারসি কবি রুমি তাঁর কবিতায় নারী প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, ‘নারী সেই, যাঁর পথ এবং লক্ষ্য, রং ও সুগন্ধের মতো।’ রুমির এই কথাগুলো অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার কাজের সঙ্গে কিন্তু ভালই মিলে যায়!

কীভাবে এমন মিল?

আসলে, মিস ওয়ার্ল্ড সম্মান দিয়ে পরিচয় পর্বের পর থেকে প্রিয়ঙ্কার জার্নিটা কিন্তু আর পাঁচ জনের থেকে বেশ আলাদা। বলিউডের ‘দেশি গার্ল’ তকমাধারী প্রিয়ঙ্কা চোপড়াই, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিদেশি ছবি ও বিদেশি প্রোডাকশনে কাজ করছেন। একটু গম্ভীর শোনালেও, এই মুহূর্তে বিশ্বের দরবারে ভারতীয় বিনোদন, কৃষ্টি, অভিনয় জগতের অন্যতম সেরা মুখ কিন্তু তিনিই। তাই প্রিয়ঙ্কার অভিনয় যে মানুষের মনে রং ও সুগন্ধ ছড়িয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়!

তবে ‘পিগি চপস’-কে শুধুই অভিনয়ের মাপকাঠিতে বিচার করাটা ঠিক হবে না। অভিনেত্রীর বাইরের প্রিয়ঙ্কাও কিন্তু সমান ভাবে জনপ্রিয়। জার্নিটা দেখার জন্য একটু পিছিয়ে যেতে হবে।

‘বিউটি কুইন’ প্রিয়ঙ্কা

এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং এবং ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা। লোকাল বিউটি কনটেস্টে জয়ের পর মা মধু চোপড়া তাঁর নাম দিয়ে দেন ‘মিস ইন্ডিয়া’ কনটেস্টে। দ্বিতীয় স্থান পেয়ে সোজা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় যোগ। ২০০০-এ ‘মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড’-এর খেতাব জয়।

২০০০ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর ক্রাউন পড়ে প্রিয়ঙ্কা। সঙ্গে বাবা, মা ও ভাই। ছবি: প্রিয়ঙ্কার ইনস্টাগ্রাম পেজের সৌজন্যে।

অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা

২০০৩-এ ‘দ্য হিরো: লভ স্টোরি অব আ স্পাই’ ছবি দিয়ে বলিউড ডেবিউ। তারপর একের পর এক ছবি, একের পর এক হিট। ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘অ্যায়তরাজ’, ‘ব্লাফমাস্টার’, ‘ক্রিশ’, ‘ডন’, ‘সাত খুন মাফ’, ‘ফ্যাশন’, ‘বরফি’, ‘মেরি কম’, ‘বাজিরাও মস্তানি’, ‘দিল ধড়কনে দো’— এখনও পর্যন্ত তাঁর হিট ছবিগুলির কয়েকটা। অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার ও ভারত সরকারের ‘পদ্মশ্রী’ পেয়েছেন প্রিয়ঙ্কা।

হলিউড পাড়ি

মার্কিন টিভি সিরিজ কোয়ান্টিকো দিয়ে শুরু হলিউডের উড়ান। ‘অ্যালেক্স প্যারিস’-এর ভূমিকায় এখন সিজন থ্রি-র কাজ শুরু করার পালা। প্রথম হলিউড ছবি ‘বেওয়াচ’। সম্প্রতি কাজ শুরু করেছেন একটি রোম্যান্টিক কমেডি ‘ইজ নট ইট রোম্যান্টিক’ ছবির।

‘বেওয়াচ’ ছবির একটি দৃশ্যে প্রিয়ঙ্কা। ছবি: প্রিয়ঙ্কার ইনস্টাগ্রাম পেজের সৌজন্যে।

প্রিয়ঙ্কার গান

২০০৫-এ জন আব্রাহামের সঙ্গে ‘করম’ ছবিতে ‘তিনকা তিনকা’ গানটি গাইতে অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু গানের প্রতি ঝোঁক থাকায় সেই সাধ মিটল ২০১২-এ মার্কিন মুলুকে ‘ইন মাই সিটি’ নামের সিঙ্গল অ্যালবামে। এর পর পিটবুলের সঙ্গে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘এক্সোটিক’। সামনেই আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে গায়িকা প্রিয়ঙ্কার।

প্রযোজক প্রিয়ঙ্কা

অভিনেত্রীর প্রোডাকশন হাউজের নাম ‘পার্পল পেবল প্রোডাকশনস’। তাঁর প্রযোজিত প্রথম মরাঠি ছবি ‘ভেন্টিলেটর’ দু’টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি পঞ্জাবি ছবিও প্রযোজনা করেছে তাঁর সংস্থা। আগামী দিনে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, অসমিয়া ও সিকিমের ছবিতেও প্রযোজক হতে চান প্রিয়ঙ্কা। অভিনেত্রী বলেন, ‘‘সঠিক সময় সঠিক কম্বিনেশন পেলেই কাজ শুরু করব।’’ বাবার মৃত্যুর পর ‘ড্যাডিস লিল গার্ল’-এর ব্যবসা সামলান মা মধু চোপড়া।

ভিন্ন রূপে প্রিয়ঙ্কা

কখনও অভিনেত্রী, কখনও গায়িকা। অস্কার ২০১৬-র মঞ্চে উপস্থাপক হিসেবেও নজর কেড়েছিলেন দেশি গার্ল। তাঁর মুকুটে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান। ২০১৬-এ প্রিয়ঙ্কা চোপড়াকে আন্তর্জাতিক গুডউইল অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিযুক্ত করে ইউনিসেফ। তাঁর সঙ্গে সেই তালিকায় ছিলেন জ্যাকি চ্যান, ডেভিড বেকহ্যাম, অরল্যান্ডো ব্লুমের মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক তারকা। এর আগে ২০১৫-তে এক ব্রিটিশ ম্যাগাজিনের বিচারে ‘সেক্সিয়েস্ট এশিয়ান ওম্যান’ হয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা।

‘ইউনিসেফ’-এর ক্যাম্পেনে আফ্রিকায় প্রিয়ঙ্কা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

সম্প্রতি তাঁদের প্রযোজনায় নতুন একটি মরাঠি ছবি ‘ক্যায় রে রাসক্যালা’র কাজ চলছে। একটি সাক্ষাৎকারে মেয়ের জীবন নিয়ে বায়োপিক প্রসঙ্গে মা মধু বলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কার জীবন খুব বোরিং। ও কাজে যায় আর বাড়ি আসে। তাই যে পরিচালক ওর জীবন নিয়ে ছবি করতে চাইবেন,  তিনিও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য খুঁজে পাবেন না। এখনই ওর জীবন নিয়ে বায়োপিক করার সময় আসেনি।’’

হ্যাঁ, বায়োপিক নিয়ে মেয়েও কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু বায়োগ্রাফি যে হতেই পারে, তা কিন্তু নিজের কথাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন শাহরুখের ‘জঙ্গলি বিল্লি’। লক্ষ্যটা বোধ হয় অনেক দূর স্থির করেছেন প্রিয়ঙ্কা। সেই মতো বিচরণ ক্ষেত্রও সম্প্রসারণ করেছেন। আর সে কারণেই সব কাজ শেষ করতে এখনও অনেকটা সময় চাই তাঁর। তাই এই মুহূর্তে তাঁর বায়োগ্রাফি হলে নাম হিসেবে ‘আনফিনিশড’ পছন্দ প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার।

কাজের খাতিরে আজকাল বেশিরভাগ সময়ই নিউইয়র্কে থাকেন প্রিয়ঙ্কা। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। আগামী ১৮ জুলাই ৩৫তম জন্মদিন তাঁর। এই বিশেষ দিনটিতে নিজের বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্যেই স্বপ্ননগরীতে হাজির পিগি চপস।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট