আমরা এখন বিদেশেও চাল রপ্তানি করতে সক্ষম

আমরা এখন বিদেশেও চাল রপ্তানি করতে সক্ষম

বন্যা ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় খাদ্য খাতে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এটাকে সাময়িক হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের এটাকে সংকট বলা উচিত হবে না। এটা সাময়িক সমস্যা, যার সমাধানে আমাদের খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য আমদানি করেছে। খাদ্য নিয়ে ভাবার কোনো কারণ নেই, এখন যে পরিমাণের খাদ্য আমাদের মজুদে আছে তা দেশের জন্য যথেষ্ট।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা দিবস- ২০১৮’ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজেদের উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্ত নিশ্চিত করেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘১৯৭৪ সালে খাদ্য আমদানির জন্য আমরা মাত্র পাঁচ মিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছিলাম। আমাদের অবস্থা আর আগের মতো নেই।’

সরকার বছরে ৫০ লাখ পরিবারকে সামান্য দামে খাদ্য সরবরাহ করে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটি দেশ যখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং একটি দেশ যখন দারিদ্র্যে শক্তভাবে অবস্থান করে, তারা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে খরচ বেড়ে যায়। তখন তাদের জীবন রক্ষার জন্য খাদ্যে ভর্তুকি দিতে হয়।’

‘আমরা বলি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেকে প্রশ্ন করেন তাহলে কেন তিন-চার টন আটা বা গম আমদানি করেন। আমি বলবো এটা একটা অনুধাবনের বিষয়।’ বলেন মুহিত।

সরকার মূলত চালের দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যেও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সক্ষম জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন বিদেশেও চাল রপ্তানি করতে সক্ষম। প্রচুর ভুট্টা উৎপাদন করি। দেড় লাখ টনের ওপর আমরা এখন গম উৎপাদন করতে পারি না।  তবে সত্যিকার অর্থে হিসাব করলে আমরা সবধরনের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।’

ব্যবসায়ীদের নিষিদ্ধ খাবার আমদানি না করার পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ খেকো পিরানহার মতো খাদ্যের শত্রু যেন আমাদের দেশে কেউ আমদানি করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদেরকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যে আরেকটি শত্রু ছোঁয়াচে মহামারি (ভাইরাস) যেন সতর্কতার সঙ্গে প্রতিহত করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

আমাদের জমি অনেক সুজলা সুফলা, তারপরও অনেক সময় খাদ্যের অভাবে আমাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এসময় ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার অংশে খাদ্য সংকট নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসনামলে যুদ্ধের জন্য তারা বড়ধরনের খাদ্য মজুদ করে রেখেছিল। ১৯৪৩ সালের দিকে আমাদের খাদ্যাভাবে মনন্তর হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইসটন চার্চিলের কাছে বাংলায় ব্রিটিশদের প্রতিনিধি লর্ড ওয়াভেল মানুষের জন্য বারবার খাদ্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই রিজার্ভ থেকে এক ফোটা শস্যদানা ছাড়েননি তিনি।’

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে ওই সময় মার্কিন রাজনীতিই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘কোনো দেশ যদি এমন কোনো দেশের সঙ্গে ব্যবসা করে যার বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের আপত্তি আছে তাহলে সেই দেশকে সহায়তা দেয়া যাবে না এমন একটি আইন মার্কিন সরকার বাংলাদেশের ওপর প্রয়োগ করে। এই আইনটি এর আগে কখনো কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়নি।’

কিউবার সঙ্গে ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই আইনটি প্রয়োগ করলে রাশিয়া কিছু খাদ্য পাঠিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বলে জানান মন্ত্রী।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক