আমরা কেন নাকে আঙুল দিই?

আমরা কেন নাকে আঙুল দিই?

আপনি কি নাক খোঁটেন? এই প্রশ্নটির উত্তর প্রত্যেকেই ‘না’ বোধক দিলেও, বাস্তবে অনেকেই বিরক্তিকর এই কাজটি করে থাকেন। নাক পরিষ্কার করার কথা বলছি না। নাক পরিষ্কার করা বাদেও কোনো কারণ ছাড়াই নাক খুঁটে থাকেন অনেকে।

তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই অভ্যাসটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, একইসাথে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকরও। ইউরোপিয়ান রেসপিরাটরি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, নাক খোঁটার এই অভ্যাস নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে সাহায্য করে।

লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিকাল মেডিসিন বিভাগের একদল গবেষক সম্পূর্ণ সুস্থ ৪০ জন মানুষের ওপরে এই পরীক্ষা চালান। এই ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবিকে মোট ৪টি দলে ভাগ করে দেওয়া হয়। এরপর তাদেরকে নাক ও মুখের যে সব কাজগুলোর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায় সেগুলো করতে বলা হয়। এর মধ্য থেকে দেখা যায় যে, নাকে হাত দেওয়ার মাধ্যমে নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশি পরিমাণে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মনে করা হতো যে, নিঃশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এই ব্যাকটেরিয়া যে হাত ও নাকের সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে তা প্রকাশ পায়।

শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাকটেরিয়া হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নাক ঘষা বা নাকে সামান্য খোঁটাখুঁটির কারণেও হতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সেপসিস ও মেনিংটিসের মতো নিউমোনিয়াগুলো ছড়াতে পারে। যেখানে প্রতি বছর ৫ বছরের কমবয়সী ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন শিশু নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করছে, সেখানে এইটুকু সচেতনতা তৈরি করাই যায়।

অভ্যাস তাড়ানোর উপায়-

নাক খোঁটার এই অভ্যাস দূর করা একটু কঠিন। কারণ, আমাদের নাকে নানাসময় নানা কারণে অস্বস্তি হবেই এবং সেখান থেকে আমাদের নাক খুঁটতেও ইচ্ছে করবে। অন্যদিক দিয়ে দেখতে গেলে, যেকোনো অভ্যাসই একেবারের জন্য ঝেড়ে ফেলাটা খুব কঠিন। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি চান, তাহলে আরও অনেক বাজে অভ্যাসের মতো নাক খোঁটার অভ্যাসটিকেও বিদায় জানাতে পারবেন আপনি। এজন্য-

আঙুলে ব্যান্ডেজ করুন-

যে আঙুল দিয়ে আপনি সাধারণত নাক খুঁটে থাকেন, অন্যমনস্ক হলেই আপনার যে আঙ্গুলটি নাকের কাছে চলে যায় সেটিকে ব্যান্ডেজ করুন। এতে করে সবসময় আপনি বাড়তি কিছুর উপস্থিতি আপনার আঙুলে অনুভব করবেন। অন্যমনস্ক হয়ে নাকে হাত চলে গেলেও টের পাবেন সহজেই।

নতুন অভ্যাস তৈরি করুন-

যেকোনো একটি অভ্যাস তাড়ানোর জন্য আরেকটি অভ্যাস তৈরি করার চাইতে ভালো কিছু আর হয় না। নতুন অভ্যাসটি পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে খুব সহজেই। তাই নাক খোঁটার মতো বিরক্তিকর অভ্যাসকে বিদায় বলতে নতুন কোনো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

নির্দিষ্ট সময়গুলোকে চিহ্নিত করুন-

অন্যান্য মানুষের মতো আপনিও নিশ্চয় কিছু নির্দিষ্ট সময়ে নাকে বেশি হাত দেন? খুঁজে বের করুন সেই সময়টি। হতে পারে সেটি আপনার টেলিভিশন দেখার সময় বা বই পড়ার সময়। এমন কিছু যদি হয় যেটি বাদ দেওয়া যাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে এই কাজগুলো করার সময় একটু বেশি সচেতন থাকুন।

জেল ব্যবহার করুন-

নাকের ভেতরে শুষ্কতা বেড়ে গেলেই নাক বেশি খুঁটে থাকে মানুষ। খুব সহজেই জেল বা দরকারি উপাদান ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি নাকের ভেতরের এই শুষ্কতা কমাতে পারেন। এতে করে নাকের ভেতরটা থাকবে আর্দ্র, আর আপনার নাক খোঁটার প্রবণতাও যাবে কমে।

আপনারও কি এমন অভ্যাস আছে? হয়তো আপনার সবসময়কার অসুস্থতার কারণগুলোর মধ্যে এটিও একটি। তাই যতটা দ্রুত সম্ভব এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট