আমাজনে আগুন: মিনিটে পুড়ছে ১০ হাজার বর্গমিটার

আমাজনে আগুন: মিনিটে পুড়ছে ১০ হাজার বর্গমিটার

জ্বলছে আমাজন। রেন ফরেস্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুড়ছে হাজার হাজার গাছ। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস রিসার্স (আইএনপিই) বলছে, দাবানলে প্রতি মিনিটে অ্যামাজনের প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার এলাকা পুড়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার ব্রাজিলের সাও-পাওলোতে বনের আগুনের ধোঁয়াতে দিনের বেলাতেই গোটা শহর ধোঁয়াতে অন্ধকার হয়ে যায়। আগুনটি লাগে আমাজোনাস ও রোনডোনিয়া বনাঞ্চলে। সেখান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাও-পাওলোতে বিকাল তিনটের পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা গোটা শহরকে অন্ধকার করে দেয় ধোঁয়া।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষকরা জমি সাফ করতে ইচ্ছে করেই অরণ্যে আগুন লাগিয়ে দেয়। বন পরিষ্কার করে এখানে তারা গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য চারণভূমি তৈরি করার জন্য এমনটা করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে খানিকটা শ্লথ রেখেছে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

ব্রাজিলের কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট বলসোনারো কাঠুরে ও কৃষকদের বনটি উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা অভিযোগ করেছেন। এদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলেছে, আমাজন অবববাহিকায় এ বছর অগ্নিকাণ্ডের পরিমাণ অন্যান্য সময়ের গড় অগ্নিকাণ্ডের তুলনায় কম। আমাজোনাস ও রোনডোনিয়াতে বাড়লেও মাতো গ্রোসো ও পারা রাজ্যে আগুন লাগার পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছে তারা।

দেশের প্রেসিডেন্ট এই ঘটনায় বলেছেন, আমাজন রেন ফরেস্টে দাবানলের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলি দায়ি কারণ দেশের সরকার তাঁদের অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। তাই তারা সরকারের না খারাপ করতে চাইছে।

লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে অববাহিত হচ্ছে অ্যামাজন নদী। তবে এর বড় অংশই ব্রাজিলের এই বনটিতে। আইএনপি’র তথ্য অনুযায়ী বনটিতে প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের চেয়ে দেড় গুণেরও বড় এলাকা ধ্বংস হচ্ছে। ফিফার ফুটবল মাঠের মাপকে অনুসরণ করে হিসাব করলে, এই ধ্বংসের পরিমাণ প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার (৯,৬০০)।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট