আমাদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে: শেখ হাসিনা

আমাদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। পাকিস্তানিদের কাছ থেকে আমরা স্বাধীন হলেও পাকিস্তানিদের কিছু প্রেতাত্মা আমাদের দেশে রয়ে গেছে যার কারণে আমাদের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত আসে। ভাষার ওপর আঘাত আসে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা স্বীকৃতির সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক রক্তের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমাদের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে জামদানী, নকশী কাঁথা, সিলেটের শীতল পাটি। আমরা এগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছি। শুধু তাই নাই সবচেয়ে বড় কথা ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন। ৭ মার্চের ভাষণ এখন সারাবিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে। ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে। ‘৭৫ এর পর বাজানো নিষিদ্ধ ছিল এ ভাষণ। ভাষণটি বাজাতে গিয়ে আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। কিন্তু সেই ভাষণই আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মন্ডলে আমরা একে পরিচিত করেছি। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর আরও অনেক দেশই এখন মাতৃভাষা দিবস পালন করে। শুধু এখানেই থেমে থাকিনি। পৃথিবীতে বহু  ছোট ছোট মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে সেসব ভাষাকে ধরে রাখার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না অসতে পারায় পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সেই কাজ বন্ধ করে দেয়। তাদের কাছে এর কোনো মূল্যই ছিল না।’

1

পরের বার ক্ষমতায় এসে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেসময় জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন কফি আনান। তিনি বাংলাদেশে এসে এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে সারাবিশ্বের ভাষা নিয়ে সেখানে গবেষণা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান সরকার একটা বিজাতীয় ভাষাকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনিই প্রথম বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন।

একুশে পদকপ্রাপ্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি তাই আমরা ২১ জনকেই বেছে নিয়েছি। কিন্তু আমাদের আরও গুণীজন রয়েছেন। পরবর্তীতে যাদের আমরা সম্মাননা জানাবো।’

এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ গুণীকে একুশে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেন- ভাষা আন্দোলনে আ জ ম তকীয়ূল্লাহ (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল ইসলাম। সংগীতে শেখ সাদী খান, সুজেয় শ্যাম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, খুরশীদ আলম ও মতিউল হক খান। নৃত্যে মীনু হক (মীনু বিল্লাহ)। অভিনয়ে হুমায়ুন ফরীদি (মরণোত্তর), নাটকে নিভিল সেন, চারুকলায় কালীদাস কর্মকার, আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা, সাংবাদিকতায় রণেশ মৈত্র, গবেষণায় ভাষাসৈনিক অধ্যাপক জুলেখা হক (মরণোত্তর), অর্থনীতিতে ড. মইনুল ইসলাম, সমাজসেবায় ইলিয়াস কাঞ্চন। ভাষা ও সাহিত্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম খান (কবি হায়াৎ সাইফ), সুব্রত বড়ুয়া, রবিউল হুসাইন ও খালেকদাদ চৌধুরী (মরণোত্তর)।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট