“আমি আমার মতো চলছি, থামছি না, থামতে চাইও না”

“আমি আমার মতো চলছি, থামছি না, থামতে চাইও না”

মনীষা কৈরালা জীবনযুদ্ধে বিজয়ী এক হলিউড তারকার নাম। নেপালের শীর্ষস্থানীয় এক রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম। কিছুদিন আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বিজয়ী হয়ে ফিরেছেন আবার তার কর্মক্ষেত্রে। নিজের জীবনের সংগ্রাম নিয়ে লিখেছেন প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য বুক অব আনটোল্ড স্টোরিজ’। এবারের সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লিট ফেস্টে’র অতিথি হয়ে এ তারকা এখন ঢাকায়।

আজ সকাল ১১টায় শুনালেন তার জীবনের নানা গল্প। ‘বাংলাদেশে সাহিত্যের এতো বড় আসরে উপস্থিত হওয়া যে কোন লেখকের জন্যই আনন্দের। এখানে এসে আমার বই নিয়ে কথা বলছি। এটা আমার জন্য অন্য রকম ভালো লাগার’ বললেন মনীষা কৈরালা। ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে তার পরিবার তাকে সাহায্য করেছে। নিজের জীবন দিয়ে তিনি উপলদ্ধি করেছেন মানুষ কতো একা। মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি আবার ফিরে এসেছেন তার কর্ম জীবনে। জয়ী হয়েছেন জীবন যুদ্ধে। মনীষা তার কঠিন জীবনে আতœবিশ্বাসে কোনরকম ঘাটতি রাখেননি।

তিনি বলেন,‘ জীবনের কঠিন সময়টাকে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রাখিনি। আমি আমার মতো চলছি। থামছি না। থামতে চাইও না।’ মনীষা জানান তিনি যা করেন ভালোবেসেই করেন। ‘আমার প্রতিটি কাজের মাঝেই আমার অন্যরকম ভালোবাসা। আর চলচ্চিত্রের কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি গল্পটা আগে দেখি। এরপর আমার চরিত্র। পথ চলার রাস্তাটাও পরিমাপ করার চেষ্টা করি। তাতে আমি আমার জীবন সম্পর্কে নিজেই মূল্যায়ণ করতে পারি। মানুষ নিজের জন্যই নিজের আপন ভুবন গড়ে নেয়। আমি তাই করেছি। নিজের ভালো থাকার জন্য নিজেকে ভালোবেসেছি। ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আগে বাসিনি। আমার মনে হয় মানুষ নিজেকে ভালোবাসলেই অন্যকে ভালোবাসতে পারবেন। অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারবেন।’ বললেন মনীষা।

কমিউনিস্ট পরিবারের মেয়ে সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা ওড়াবে কোথায়! তা নয়, রূপালি জগতের নেশায়মত্ত মনীষা একেবারে স্কুলবেলাতেই নাম লেখালেন মডেলিংয়ে। পড়তে এলেন ভারতে, সেখানেও মাথা থেকে নামানো গেল না অভিনয়ের ভূত। তারও আগে ১৯৮৯’ তে মনীষা অভিনয় করে এসেছেন ‘ফেরি ভেতওলা’ নামের একটি সিনেমাতে।

বলিউডে থিতু হতে একটু কাঠখড় তো পোড়াতেই হত! তবে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি মনীষাকে। নজরে পড়ে গেলেন ডাকসাইটে পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের। তার সিনেমা ‘সওদাগর’ এর মাধ্যমেই হয়ে গেল মনীষার বলিউডি অভিষেক। এর পর মনীষাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ‘ইয়ালগার’ ‘নাইনটিন ফোরটি টু-আ লাভ স্টোরি’, ‘ক্রিমিনাল’, ‘আকেলে হাম আকেলে তুম’, ‘মন’ ‘ছোপা রুস্তম’, ‘তুম’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘গুপ্ত’, ‘দিল সে’, ‘লজ্জা’, ‘কোম্পানি’-র মতো কমার্শিয়ালে গ্ল্যামারাস অবতারে দেখা যায় তাকে।

কমার্শিয়ালের বাইরে এসে মনীষা বেশকিছু বিকল্প চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হিন্দি, মালায়লাম সিনেমাতে অভিনয় করেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে চারবার ঝুলিতে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও পুরেছেন তিনি।

২০১০ সালে মনীষা বিয়ে করেছিলেন সম্রাট দাহাল নামে এক নেপালি ব্যবসায়ীকে, যার সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যম ফেইসবুক। দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি তাদের। দু বছরের মাথায় হয়ে যায় বিচ্ছেদ। এরপরই মনীষার ক্যারিয়ারে আসে একটা বিরতি। ওভারির ক্যান্সার সনাক্ত হওয়ার পর নিজেকে গুটিয়ে নেন মনীষা। চিকিৎসার উদ্দেশে যান ‍যুক্তরাষ্ট্রে। টানা ৫ বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসেন বলিউডে। সম্প্রতি তিনি সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক ‘সঞ্জু’ ছবিতে সঞ্জয় দত্তের মা নার্গিস দত্তের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট