আমেরিকার সাইবার হামলা ব্যর্থ হয়েছে: ইরানি মন্ত্রী

আমেরিকার সাইবার হামলা ব্যর্থ হয়েছে: ইরানি মন্ত্রী

ইরানি স্থাপনায় আমেরিকার সাইবার হামলা সফল হয়নি বলে দাবি করেছেন ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ আজারি জাহরমি। সোমবার টুইটারে তিনি এই দাবির কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

পরমাণু চুক্তি নিয়ে মতানৈক্যের পর ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উগসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে আমেরিকা। আরব উপসাগরে সাম্প্রতিক দুটি ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে কয়েকদিন আগেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার আমেরিকার ‘আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক’ নামের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান।

এই উত্তেজনা পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পর সে দেশের অস্ত্রব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকা ইরানি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটারের ওপর হামলা চালিয়ে তা অকার্যকর করে দিয়েছে।

তবে সোমবার ইরানি মন্ত্রী দাবি করেছেন, আমেরিকার এই সাইবার হামলা ব্যর্থ হয়েছে। টুইটারে মোহাম্মদ জাভেদ আজারি জাহরমি বলেন, তারা অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সফল হামলা চালাতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমেই প্রশ্ন ওঠেছে সত্যি কি তারা হামলা চালিয়েছে। গত বছর আমরা ইরানি ফায়ারওয়াল দিয়ে ৩৩ মিলিয়ন হামলা ঠেকিয়েছি।

আজারি জাহরমি ইরানি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে হামলাকে সাইবার-সন্ত্রাসবাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমেরিকার পক্ষ থেকেও ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেছেন, ইরানের সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে দেশটি।

২০১৫ সালে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু গত বছর ইউরোপীয় মিত্রদের বাধা সত্ত্বেও ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ইরানের ওপর তেল রফতানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক অবরোধ আরোপ করে আমেরিকা। সেখান থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার সূত্রপাত।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট