ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেলো

ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেলো

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৭৪৭ ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৩৮৩ ভোট। এই প্রতিষ্ঠানে তিনিই হলেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। খবর ডয়েচে ভেলে।

নির্বাচনে জিততে ন্যূনতম যে ভোট পাওয়া দরকার ছিল তার চেয়ে মাত্র নয় ভোট বেশি পেয়েছেন এই জার্মান রাজনীতিবিদ। ইসির ৩২৭ আইনপ্রণেতা তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন ২২ জন।

মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ৭৪৭ সংসদ সদস্য। ‘মিসেস ইউরোপ’ হওয়ার জন্য ফন ডেয়ার লাইয়েনকে কমপক্ষে ৩৭৪ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিলো।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গের পার্লামেন্ট ভবনে এই ভোটাভুটি হয়। দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার পদ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নানা দেন দরবারের পর ইইউ-এর শীর্ষ পদে মনোনয়ন পান জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফন ডেয়ার লাইয়েন।

পার্লামেন্ট মেম্বাররা সমর্থন দেওয়ায় ব্রাসেলসে ফিরছেন জার্মানির ক্ষমতাসীন ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) রাজনীতিবিদ ফন ডেয়ার লাইয়েন। সেখানেই তাঁর শৈশব কেটেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ববর্তী সংগঠন ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটি (ইইসি)-এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন তার বাবা এর্নস্ট আলব্রেখট। বাবার কর্মস্থল ব্রাসেলস-এ ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন ফন ডেয়ার লাইয়েন।

জীবনের প্রথম ১৩ বছর ব্রাসেলসে কাটানোয় ফরাসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি। মাতৃভাষা জার্মানের সঙ্গে ফরাসি ও ইংরেজি জানেন ফন ডেয়ার লাইয়েন। এতগুলো ভাষা জানেন বলেই ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট পদে তাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে ২০০৫ সালে ফন ডেয়ার লাইয়েনকে বার্লিনের মঞ্চে নিয়ে আসেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল। দায়িত্ব নিয়ে বাবা-মায়ের সহায়তা কার্যক্রম এবং চাইল্ডকেয়ার প্রোগ্রামের আওতা বাড়াতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়ান তিনি।

পেশায় চিকিৎসক ফন ডেয়ার লাইয়েনকে ২০০৯ সালের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন চ্যান্সেলর মেরকেল। এরপর ২০১৩ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।

তবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ফন ডেয়ার লাইয়েন একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য জার্মানিতে প্রবল চাপের মুখে রয়েছেন। এক সংসদীয় কমিটি তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচিত না হয়েও মারকেলের প্রভাবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান হিসাবে মনোনয়ন পান ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের ফন ডেয়ার লাইয়েন। এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে জার্মানির মহাজোট সরকারের শরিক এসপিডি দলও।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট