ইরানকে আবারও আলোচনায় ডাকছে আমেরিকা

ইরানকে আবারও আলোচনায় ডাকছে আমেরিকা

নিজেরা পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে এবং ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও আমেরিকা অভিযোগ করছে, চুক্তি লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে তেহরান অন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তেহরান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বলেও মন্তব্য করেছে দেশটি। তবে আমেরিকা বলছে, ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার দরজা এখনও খোলা আছে।

পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এ বছরের মে মাসে তেহরান চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ৭ জুলাই সেই সময়সীমা শেষে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫% শতাংশে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেয় ইরান। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এই মাত্রা ৩.৬৭% শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল তেহরানের।

পারমাণবিক চুক্তির শর্ত থেকে আবারও ইরানের সরে আসার ঘোষণায় জরুরি বৈঠক করার জন্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রতি অনুরোধ জানায় আমেরিকা। বুধবার (১০ জুলাই) সে বৈঠক ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিস্তৃত করার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই। একে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের স্পষ্ট ও বাজে এক প্রচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি ঘোষিত পারমাণবিক পদক্ষেপ সরে আসতে এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধকরণ পরিকল্পনা বাতিল করতে আমরা ইরানকে আহ্বান জানাচ্ছি। আমেরিকা স্পষ্ট করছে যে, কোনও ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই আমরা আলোচনার পথ খোলা রেখেছি। সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানকে প্রস্তাব দিচ্ছি।’

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট