ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধের নীতিতে অটল থাকতে পারল না আমেরিকা

ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধের নীতিতে অটল থাকতে পারল না আমেরিকা

মার্কিন সরকার গত ছয় মাস ধরে ইরানের তেল বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ইরান থেকে যেসব দেশ জ্বালানি তেল আমদানি করে তাদের প্রায় সবাইকে অর্থাৎ আটটি দেশকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখতে রাজি হয়েছে আমেরিকা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, আটটি দেশ সীমিত সময়ের জন্য ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেও মার্কিন কর্মকর্তারা হুমকি দিয়ে আসছিলেন আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু এ হুমকি সত্ত্বেও ইরান দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।  অর্থনৈতিক বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি’র তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ বিভাগের প্রধান বিজার্নার টোঙহাওগেন বলেছেন, “ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই কম। এর কারণ হচ্ছে চীন। কেননা বেইজিং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ নিষেধাজ্ঞাও ভেস্তে যেতে বসেছে।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা ব্যাপক প্রচার চালিয়ে ও হুমকি ধমকি দিয়ে আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরি করেছিল। তবে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের তেল বিক্রি কমে গেলেও বর্তমান বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ওই ক্ষতিও ইরান সহজে পুষিয়ে নেবে। এমনকি ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম অনেক বেড়ে যাবে।

তেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণের ক্ষমতা সৌদি আরবের নেই। এ অবস্থায় মার্কিন সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য আটটি দেশকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার ঘোষণা দিয়েছে যাতে এ দেশগুলো ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে পারে।

ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে ইরান একের পর এক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে আসছে। বর্তমানেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি সত্বেও ইরান বিশ্ব বাজারে তেলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তা ছাড়া, তেল এমন একটি জরুরি পণ্য যার ঘাটতি সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এসব কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই আমেরিকা ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ইরানকে নতজানু হতে বাধ্য করা হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনও ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সবসময়ই মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করে দিলে জনগণ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবে। তখন তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নিষেধাজ্ঞার পরও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি এবং ইরান সরকারও আমেরিকার কাছে মাথানত করেনি। এমনকি খুব শিগগিরি ইরান ও ইউরোপের মধ্যে বিশেষ অর্থ ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। এর ফলে ইরানের ব্যবসা বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট