ইসরাইল ও আরব সরকারগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার: চুক্তি সই

ইসরাইল ও আরব সরকারগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার: চুক্তি সই

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে বহু টাকা মূল্যে চুক্তিতে সই করেছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের দৈনিক হারেতয এ কথা জানিয়েছে।

দৈনিকটি লিখেছে, আড়িপাতা ও গুপ্তচরবৃত্তির কাজে যন্ত্রপাতি তৈরি ও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে দখলদার ইসরাইল। দৈনিকটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইল গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত যেসব যন্ত্রপাতি তৈরি করে তা দিয়ে অন্যের ফেসবুক একাউন্ট ও ইমেইলে প্রবেশ করা যাবে এবং এমনকি কারো মোবাইলের মধ্যে প্রবেশ করেও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক একটি ওয়েব সাইটের খবরে বলা হয়েছে, “সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কাছে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ইসরাইলের দু’টি কোম্পানিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইনসহ রাজতন্ত্র শাসিত অন্যান্য আরব সরকারগুলো দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী মুশে ইয়ালুন বলেছেন, এই আরব দেশগুলো ইসরাইলের নতুন বন্ধু।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন সময় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে যখন ইসরাইল দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনসহ ইসলাম ও মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী বহু এলাকা দখল করে আছে এবং প্রতিবাদী ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি কিছুদিন আগে এক প্রতিবেদনে বলেছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে গুপ্তচরবৃত্তির বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে এবং তাদের এই প্রচেষ্টার পেছনে আমেরিকা ও ইসরাইলের সর্বাত্মক সাহায্য সমর্থন রয়েছে।

সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জনগণের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে আমেরিকার আরেকটি ম্যাগাজিন দ্যা আন্ডার স্পট লিখেছে, “এই এলাকার জনগোষ্ঠীর ওপর আরো বেশি নজরদারি করার জন্য ওই তিন আরব দেশ ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কিনছে।

খ্যাতনামা রুশ ইহুদি লেখক আজরাইল শামির বলেছেন, “সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পরিচালনা করছে এবং তিনিই সৌদি সরকার বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করেছেন।”

এদিকে, সৌদি ও আমিরাতের কর্মকর্তারা কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামদ আলে সানির মোবাইল হ্যাক করে গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য ইসরাইলের গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী কোম্পানির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শুধু কাতারের আমিরের বিরুদ্ধে নয় একই সঙ্গে লেবাননের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি ও সৌদি প্রভাবশালী প্রিন্স মোতায়াব বিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধেও গোয়েন্দাবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে।

যাইহোক, গুপ্তচরবৃত্তির কাজে আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের যে সহযোগিতা রয়েছে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে নৈরাজ্য বিস্তার করা ছাড়া আর কোনো ফল বয়ে আনবে না বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট