ঈদে কেনাকাটায় প্রয়োজনীয় শপিং টিপস

ঈদে কেনাকাটায় প্রয়োজনীয় শপিং টিপস

ঈদের শপিং বলে কথা! ছোটখাট ঝামেলা থেকেই যায়। আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কিভাবে কি করবো ? কাকে কী দেব? শেষমেস দেখা যায় পরিকল্পনার অভাবে পুরো বিষয়টাই খাপছাড়া হয়ে যায় । দেখা যায় ইচ্ছে ছিল একরকম কিন্তু হয়ে গেছে অন্য কিছু।

ঈদ মানে খুশি। আর ঈদের অন্যতম খুশি হল নতুন জামাকাপড়। আপনার মনোপূত শপিং আপনার ঈদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আর মনোক্ষুন্ন শপিং আপনার পুরো ঈদটাকে মাটি করে দিতে যথেষ্ট। ঈদে শপিং করতে যাচ্ছেন? অনেকেই হয়তো সেরে ফেলেছেন। যারা এখনও করেন নি, আসুন কিছু সাধারণ টিপস এবং ট্রিকস শেয়ার করা যাক শপিংসংক্রান্ত।

১। দোকানদারকে সবসময় নিরুত্সাহিত করার চেষ্টা করুন। সে তার পণ্যের যতোই সাফাই গেয়ে যাক, আপনার পছন্দ হলেও এমন একটা ভাব ধরুন, যেন আপনি খুব একটা ওটার প্রতি ইন্টারেস্টেড না। তাহলে ন্যায্য দামে পছন্দের পণ্যটি নিতে পারবেন।

২। কোন দোকানে যদি কাস্টমার না থাকে, তাহলে ওই দোকানে অবশ্যই ঢুকবেন না। কারণ দোকানদার এবং এসিস্টেন্টরা মিলে যেকোন ধরনের মানহীন অথবা মানসম্পন্ন জিনিসই চড়াদামে গচিয়ে দিবে আপনার উপর মেন্টাল প্রেশার সৃষ্টি করে।

৩। দামাদামির ব্যাপারে সচেতন হোন। ঈদের মওসুমে আপনার মতো সবাইই চায় স্বাচ্ছল্যে ঈদ কাটাতে। এতে দোকানদার আপনাকে হাজার/পনেরোশ টাকার জিনিস চার/পাঁচ হাজার টাকায় ধরিয়ে দিতে চাইবে। দাম বেশি শুনে আবার পার্ট নেয়ার উদ্দেশ্যে টোপ গিলে ফেলবেন না।

৪। উদাহরণস্বরুপঃ দোকানদার যখন আপনার কোন পাঁচ হাজার টাকার ক্রয়ের উপর ‘আমি মাত্র একশো টাকা লাভ করছি’ টাইপ বক্তব্য দিচ্ছে, তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখুন সে আপনাকে ঢপের চপ খাওয়াচ্ছে। ওই জায়গায় সে ন্যূনতম এক থেকে দুই হাজার টাকা লাভ করে নিচ্ছে।

৫। পরিচিত কোন আত্মীয়ের দোকান থেকে বিলকুল শপিং করতে যাবেন না। আমার দেখা এমন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মীয়তা নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

৬। ‘ফিক্সড প্রাইস’ সেলার দোকানগুলোতে গিয়ে দামাদামি করার মতো বেকুবি অবশ্যই করবেন না। এটা আপনার আত্মসম্মানের ব্যাপার। তবে ফিক্সড প্রাইস দোকান ছাড়া কোন সাধারণ দোকানে কোন পণ্যের সাথে প্রাইস ট্যাগ লাগানো থাকলে আবার সেটাকেও নিজের আত্মসম্মানের সাথে গুলিয়ে শরবত বানাবেন না। এগুলো দোকানদারদের চালাকি; নিজেদের পৌষমাস আর আপনার পকেটের সর্বনাশ করার জন্য।

৭। মার্কেটে কোন একলা জায়গায় (যেমনঃ সিড়িকোটা, এখনো চালু হয়নি এরকম আন্ডার ডেকোরেশন রুম ইত্যাদি) কেউ ডাকলে অবশ্যই যাবেন না। কারণ আপনি ছিনতাইকারির কবলে পড়তে যাচ্ছেন।

৮। এখনকার এই প্রতিযোগীতামূলক বাজারে প্রতিটি পণ্যই একাধিক দোকানে পাওয়া যাবে। তাই কোন একটা পণ্য পছন্দ হলে সেটার সম্পর্কে কয়েক দোকান ঘুরে জানুন। তারপর কম্পেয়ার করে দামাদামি করে কিনুন। ঠকবেন না।

৯। দোকানদারের সাথে কথা বলার সময় নাকে আঙুল ঘষা অথবা মাথা চুলকানো টাইপ বোকামী করবেন। দোকানদাররা হয়তো সাইকোলজি পড়ুয়া শিক্ষিত না। তবে তারা এটুকু সাইকোলজি অন্তত বোঝে যে, এসব আপনার ইতস্তততার লক্ষণ। আর এই সুযোগই তারা নিবে আপনার পকেট কাটতে।

১০। চেষ্টা করুন দোকানদারকে ইতস্তততার মধ্যে ফেলে দিতে। যদিও এটা প্রায়-অসম্ভব কাজ। কারণ, আপনি এভারেজ মাসে একদিন শপিংয়ে যান। আর ওরা সারাদিন শপ-এই পড়ে থাকে। অভিঞ্জতার ব্যাপার স্যাপার বটে! তবে একটু চালাকি খেললে এটাও সম্ভব। এমন একটা ভাবসাব ধরুন, যেন ওর দেখানো কিছুই আপনার পছন্দের সাথে মিলছে না। মনে রাখবেন, দোকানদারদের কাজ আপনাকে ‘গচানো’। আপনার পছন্দ অপছন্দ কোন ম্যাটার না। একটু বুদ্ধি দিয়ে ওদের তীর ওদের দিকেই ঘুরিয়ে দিতে পারবেন।

ধৈর্য্য ধরুন। আপনার পছন্দের জিনিস না পেয়ে ধৈর্য্য হারিয়ে বসবেন না। তাহলেই ঈদ মাটি হয়ে যাবে।

**আপনার ওয়ালেট-পার্স অবশ্যই সামলিয়ে রাখুন। আমার মতো আপনিও জানেন, এখন ‘তেনাদের’ আড্ডাখানা হবে শপিংমল বা মার্কেটগুলো। ওয়ালেট অথবা পার্সে খুব একটা টাকা না রাখাই ভাল। ওগুলোতে স্রেফ এক কি দু’শো টাকা রেখে শপিংয়ের বাজেটটা নিজের কাছে লুকিয়ে রাখুন। নয়তো দেখবেন প্যান্ট আছে, ওয়ালেট নাই অথবা হাতের মুঠোয় পার্সের বদলে একদলা ভাঁজ করা ত্যানাফাটা ধরে কেবলাকান্তা হয়ে আছেন। তবে এটুকু নিরাপত্তা নিলে প্যান্ট থাকুক আর হাতে ত্যানাফাটা থাকুক, ঈদের বাজেট খুঁইয়ে বসতে হবে না।

একটু চালাক না হলে পদে পদে ঠকবেন। আর ঈদবাজার এমন একটা জায়গা, যেখানে প্রতি মুহুর্তেই কেউ না কেউ ঠকছে। এই দুনিয়ার পরিচালনার ভার এখন চালাকদের হাতে। বোকাদের খানা-প্লেট কিছুই নাই এখানে। আপনি বোকা মানে কেউ না কেউ আপনার বোকামীর ফায়দা ওঠাচ্ছে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*

সম্পর্কিত সংবাদ