উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু নিহত ২৩

উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু নিহত ২৩

উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। এই আঘাতের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।

এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশে উপকূলের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে। শনিবার বিকেলের মধ্যেই এটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূল অতিক্রম করছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, শনিবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম, ভোলা ও বরিশাল অতিক্রম করছে।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মূলত শুক্রবার মাঝরাতে উপকূলে আঘাত হানে। এর প্রভাবে তখন থেকে উপকূল অঞ্চলসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর এই বৃষ্টিই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

দুপুরে ভোলায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। ঝড়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ঘরচাপায় নারীসহ দু’জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক লোকজন।

এছাড়া ঝড়ে উপজেলার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া লালমোহন উপজেলায় ঝড় আতঙ্কে আরও একজন মারা গেছেন। ঝড়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ গ্রামের মফিজের ছেলে মো. আকরাম (১২), একই এলাকার মো. নয়নের স্ত্রী রেখা বেগম (২৫), লালমোহন উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মো. ইউনুস (৫৫)। আহতদের উদ্ধার করে তজুমদ্দিন ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর দশমিনায় ঘূর্ণিঝড়ে শনিবার সকালে নয়া বিবি (৫২) নামে এক গৃহবধূ ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরচাপায় নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুন্দর আলীর স্ত্রী। জেলার রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলায় বেশকিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঞ্জল সলিমপুরে গাছচাপায় শনিবার ভোররাতে মা কাজল বেগম (৫০) ও তার ছেলে মো. বাবু (১০) নিহত হয়েছেন। নিহতরা ওই এলাকার মো. রাফিকের স্ত্রী ও ছেলে।

এইদিকে, টিনের চাল উড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহরের দুই নম্বর গেট এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে টিনের চাল উড়ে রাজিব (১৩) নামে এক কিশোর মারা যায়।

নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় আরও এক কিশোর নিহত হয়েছে।  নিহত কিশোরের নাম মো.রাকিব (১১)।

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে এ ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া সন্দিপ ও কুতুবদিয়ায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

তজুমদ্দিন উপজেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রাশেদ খান জানান, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া আঘাত হানে। এতে গাছচাপা পড়ে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এক নারী এবং সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া লালমোহন উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় ঝড় আতঙ্কে মো. ইউনুস নামে একজন মারা গেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক