এই গরমে সতেজ থাকবেন কিভাবে

এই গরমে সতেজ থাকবেন কিভাবে

গরমের দিনে ঘরে বাইরে কোথাও শান্তি মেলা খুব কষ্টকর। যাঁদের অফিস যেতে হয় বা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ সারতে হয়, তাঁদের কষ্ট আরও বেশি। ঘাম ঝরে শরীরে আসে ক্লান্তিভাব। আর রোদে পুড়ে ত্বকে পড়ে ট্যান। তাহলে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে ক্লান্তি ও সানবার্ন থেকে থেকে মুক্তি পেতে কী করণীয় জেনেনিন।

গোসলের আগে বা পরে

  • পাকা কলা বা তরমুজ যে কোনও একটি নিতে পারেন। এবার তাতে মেশান এক চামচ গুঁড়ো দুধ, ৪ থেকে ৫ ফোঁটা মধু ও ২ ফোঁটা অরেঞ্জ এসেন্সিয়াল অয়েল। ভালো করে প্যাক বানিয়ে নিন। মুখের ত্বক পরিষ্কার করে প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট মতো। ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। যাদের গায়ের রং শ্যামলা তাদের জন্য গরমকালে এই প্যাকটি ভীষণ কার্যকরী। কারণ গরমে তাদের মুখ সহজেই বিবর্ণ বা কালচে হতে শুরু করে। নষ্ট হয় মুখে সৌন্দর্য।
  • এক চামচ ওটমিল পাউডার নিন। তাতে টক দই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার ওই পেস্টে মেশান শশা বা আঙুর ও ২ ফোঁটা গোলাপ জল। প্যাকটি মুখে ম্যাসাজ করুন। রেখে দিন আধঘণ্টা মতো। পরে জল দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন। এতে মুখের ত্বকের ট্যান একেবারে দূর হয়ে যাবে। আপনি পাবেন সতেজ ত্বক।
  • ওটমিলের সঙ্গে টোম্যাটোর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। তাতে এক ফোঁটা পিপারমেন্ট এসেন্সিয়াল অয়েল যোগ করুন। শরীরে যেসব জায়গায় ত্বকের কোষ নির্জীব হয়ে এসেছে, সেখানে এই প্যাকটি লাগান। চোখের নীচে ও মুখে লাগাবেন না। ১০ মিনিট রেখে ভিজে তুলো দিয়ে মুছে নিন। অথবা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের বড় মুখ ছোটো হয়ে আসবে এবং মৃত কোষ ঝরে যাবে। আপনার শরীরে আসবে সতেজভাব।
  • গরমে চোখেরও আরাম চাই। তাই ফ্রিজ়ে রাখা ঠান্ডা দুধে তুলো ভিজিয়ে নিন। তার উপর রাখুন মোটা ও গোল করে কাটা শশা। এবার এটি চোখের পাতার উপর রেখে ১০ মিনিট বিশ্রাম করুন। এতে গরমে আরাম পারে চোখ। দূর হবে চোখের নীচের কালচে ভাব। আর চোখে লালচে ভাব ও চুলকানি হলে শশার পরিবর্তে আলু ব্যবহার করুন। আলুর গোল গোল ফালি ফ্রিজ়ে কয়েক মিনিট রেখে ঠান্ডা করে নিন। এবার চোখের উপর রেখে দিন। দূর হবে এধরনের সমস্যা।

গোসলের জন্য

  • গরমের দিনে স্নানের জলে মিশিয়ে নিন এক কাপ বাটারমিল্ক (লস্যি)। এতে ত্বকের খোলা মুখ বন্ধ হবে। ত্বক থাকবে টানটান। আর জলে মিশিয়ে নিন কয়েক ফোঁটা জেসমিন এসেন্সিয়াল অয়েল। দেখবেন, সারাদিন আপনি ঝরঝরে সতেজ রয়েছেন।
  • সানবার্ন থেকে রক্ষা পেতে সারা গায়ে মেখে নিতে পারেন টক দই। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে আপনি ট্যান থেকে দ্রুত মুক্তি পাবেন।
  • কনুইয়ের কালো দাগ দূর করতে চান? তাহলে এক চামচ চিনি নিন। তাতে অর্ধের লেবুর রস মেশান। এবার মিশ্রণটি কনুইয়ে হালকা করে ঘষতে থাকুন। ১০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • স্নানের জলে মিশিয়ে নিতে পারেন কয়েক ফোঁটা চন্দনের এসেন্সিয়াল অয়েল। চন্দন শরীর ঠান্ডা রাখে। তাই এভাবে স্নান করতে একদিকে যেমন শরীর ঠান্ডা থাকবে অন্যদিকে দূর হবে আপনার নেগেটিভিটি।
  • গরমে ঘাম হওয়ায় অনেক সময়েই কাজে এনার্জি পাওয়া যায় না। তাই কাজের ফাঁকে বা কোথাও বেরোনোর আগে টিশু পেপারে মুড়িয়ে নিন আইস কিউব। সেটি ঘষে নিন পালস্ পয়েন্টে। যেমন – হাঁটুর নীচে, পায়ের গোড়ালির কাছে, কবজির অংশে বুলিয়ে নিন। দেখবেন, এতে আপনি পাবেন ইনস্ট্যান্ট এনার্জি। তাতে আপনার অ্যাপিয়ারেন্সও থাকবে নজরকাড়া।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*

সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট