একজনের রক্তে বাঁচলো ২৫ লাখ প্রাণ

একজনের রক্তে বাঁচলো ২৫ লাখ প্রাণ

অবসরে গেলে প্রত্যেককেই কোনো না কোনো উপহার দেয়া হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এই উপহারের ক্ষেত্রে সোনার ঘড়ি দেয়ার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। তবে জেমস হ্যারিসনের চাইতেও বড় কোনো উপহার পাওয়ার যোগ্য।

‘ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন আর্ম’ বলে পরিচিত হ্যারিসন গেল ৬০ বছর ধরে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই রক্ত দিয়ে আসছেন। গত শুক্রবার ৮১ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান এ নাগরিক অবসরে গেছেন। তার এ অবসরের মাধ্যমে শেষ হলো স্মরণীয় এক অধ্যায়ের। অস্ট্রেলিয়ার রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, তিনি আড়াই মিলিয়নেরও বেশি বাচ্চার জীবন বাঁচিয়েছেন।

তার রক্তে এক বিশেষ ধরণের অ্যান্টিবডি রয়েছে যা দিয়ে রেসিস রোগ প্রতিরোধের এক ধরনের ইনজেকশন তৈরি হয়। সাধারণত গর্ভাবস্থায়ই এই রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। এই রোগের ভয়াবহতা এতটাই দৃঢ় যে, এতে আক্রান্ত হলে শিশুর ব্রেন ড্যামেজ কিংবা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

বাচ্চার মায়ের রক্ত যদি রেসাস-নেগেটিভ হয় এবং বাচ্চা যদি বাবার থেকে রেসাস পজিটিভ রক্ত পায় তবে এমনটা ঘটে। এতে আক্রান্ত হলে মায়েদের গর্ভের ভ্রূণই মারা যেতে পারে। ১৪ বছর বয়সে যখন হ্যারিসনের প্রথম চেস্ট সার্জারি হয় তখন তাকে রক্ত নিতে হয়। অন্যের রক্তে নিজের জীবন বাঁচার পর থেকেই রক্ত দিতে শুরু করেন তিনি।

এর কয়েক বছর পর চিকিৎসকরা আবিষ্কার করেন, তার রক্তে এক বিশেষ ধরনের অ্যান্ডিবডি রয়েছে যা দিয়ে অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন তৈরি করা সম্ভব। এরপর থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যতটা সম্ভব রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর।

তবে হ্যারিসনের দেহে কেন এমন বিশেষ ধরনের রক্ত রয়েছে সেই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে পারেননি চিকিৎসকরা। তাদের ধারণা, ১৪ বছর বয়সে প্রথম সার্জারিতে তার রক্ত নেয়ার পরই এমনটা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তার মতো এমন রক্ত রয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ জনের শরীরে।

রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিস জানায়, প্রতি ব্যাগ রক্তই মহামূল্যবান, তবে হ্যারিসনের রক্ত আরও বেশি মূল্যবান। তার রক্ত জীবন বাঁচানোর ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার হয়, গর্ভবতী নারীদের তাদের সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য দেয়া হয় এই ঔষধ। অস্ট্রেলিয়ায় যত অ্যান্টি-ডি তৈরি হয়েছে তার সবই হয়েছে হ্যারিসনের রক্ত দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ শতাংশ নারীই এমন ঝুঁকিতে রয়েছেন, সুতরাং হ্যারিসনের রক্তে বেঁচেছে বহু জীবন।

হ্যরিসনের রক্ত দিয়ে তৈরি ঔষধে বেঁচেছে মিলিয়নেরও বেশি জীবন। এই কারণেই তাকে অস্ট্রেলিয়ায় ন্যাশনাল হিরো বলে বিবেচনা করা হয়। নিজের এমন উদারতার জন্য মেডেল অব দ্য অর্ডার অব দ্য অস্ট্রেলিয়াসহ বহু পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

হ্যারিসন বলেন, যখন কেউ আমাকে বলেন, তুমি এটা করেছ কিংবা তুমি একজন হিরো তখন সেটা শুনতে খুব অপমানজনক বলে মনে হয়। এটা আমি করতে পারি। এটা আমার ট্যালেন্ট, হয়তো সেটাই আমার ট্যালেন্ট যে আমি একজন রক্তদাতা।

গেল শুক্রবার শেষবারের মতো রক্ত দিয়েছেন হ্যারিসন। তবে এখন অন্য যেসব ব্যক্তির দেহে এই ধরনের রক্ত রয়েছে তারা রক্ত দান করবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট