একটি দিনের জন্য ক্ষমতা ছাড়ুন না: মির্জা ফখরুল

একটি দিনের জন্য ক্ষমতা ছাড়ুন না: মির্জা ফখরুল

নির্বাচন কমিশন ইসিকে সঙ্গে নিয়ে সরকার আগামী নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে ষড়যন্ত্র করছে— এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন তারা।

নেতারা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করা ছাড়া অন্যকোনো বিকল্প নেই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একদিনের জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দেখুন কী অবস্থা হয় দেশের।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ৯০ এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতাদের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার এমন এক জায়গায় গেছে যেখান থেকে ফিরতে পারবে না— সম্পূর্ণ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বন্দুক-পিস্তলের ওপর নির্ভর করে হুকুমের রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে।

একটা দিনের জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেন না— ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দেখুন কী অবস্থা হয় দেশের। আজকে আপনারা যে অবস্থায় দেশটাকে নিয়ে গেছেন, এটাতে কোনোভাবেই আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণের জায়গা নাই— আপনারা একে একে সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার কোনও পরিবেশ নেই এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রলীগ দখল করে নিয়েছে। আজকে স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছু নেই। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য চলছে, আপনারা নিজেরাই দেখছেন পত্রিকায় আসছে। চিকিৎসকরা হাসপাতাল বন্ধ করে দিচ্ছেন। রোগীদের বের করে দিচ্ছেন।’

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে বেশি দিন জেলে রাখতে পারবেন না— ইতিহাস তা বলে না। ইতিহাস বলে— এদেশের মানুষ সবসময় নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে। ইতিহাস বলে— এদেশে সব সময় যাকে কারারুদ্ধ করে নির্যাতন করা হয়, তার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। আপনারা নিশ্চিত দেখবেন, খালেদা জিয়াকে এদেশের মানুষ কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবে, কারগার ভেঙেই তাকে নিয়ে আসবে। মানুষকে একত্রিত করতে হবে। সময় এবং সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘ এই কমিশনকে কিছু জিজ্ঞেস করলে (তারা) বলে উল্টো কথা। একজন সচিবকে দিয়ে নির্বাচন কমিশন চলে, তিনি হলেন হেলালউদ্দিন সাহেব। তিনি বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস করেন। এরপর তিনি চলে যান একটি বিশেষ দলের বিশেষ কার্যালয়ে।

আরেকটি অনুষ্ঠানে সরকার বিরোধী যে কোনো আন্দোলন বন্ধের অংশ হিসেবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা।

তারা বলেন, দেশের সকল অরাজকতা দূর করার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট