এক নজরে ‘রক গানের জাদুকর’ আইয়ুব বাচ্চু

এক নজরে ‘রক গানের জাদুকর’ আইয়ুব বাচ্চু

বাংলাদেশে ব্যান্ডসঙ্গীতের অনন্য এক কিংবদন্তির নাম আইয়ুব বাচ্চু। উপমহাদেশের সেরা গিটারিস্ট ছিলেন বিরল প্রতিভাধর এই শিল্পী। বাংলাদেশে তথা বাংলা রক মিউজিকের আঙিনা ছেড়ে চিরতরে চলে গেলেন বাংলাদেশি ব্যান্ডসঙ্গীতের এই পথিকৃৎ। জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তার মৃত্যুতে স্বজন, সহশিল্পী, সহকর্মী ও ভক্ত-শ্রোতা তথা দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গানের পাশাপাশি গিটারের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। সেই রূপালী গিটার আর অগণিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জনপ্রিয় এই সঙ্গীততারকা। প্রায় তিন যুগের সঙ্গীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তাকে নিয়ে সবসময়ই শ্রোতা-ভক্ত ও শুভাঙ্ক্ষীদের মধ্যে রয়েছে প্রবল কৌতূহল। তাই এক নজরে জেনে নেওয়া যাক কিংবদন্তি এই শিল্পীর জীবন-পঞ্জি।

নাম: আইয়ুব বাচ্চু, ডাকনাম রবিন, এবি নামেও পরিচিত।

পেশা: গায়ক, লিড গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও প্লেব্যাক শিল্পী।

গানের ধরণ: রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

জন্ম: ১৬ আগস্ট ১৯৬২, চট্টগ্রাম

সঙ্গীতজীবন শুরু:  ১৯৭৮ সালে ‘সোলস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সঙ্গীতজগতে তার যাত্রা শুরু। এরপর তিনি যোগ দেন সোলসে। ১৯৮০ থেকে পরবর্তী এক দশক এই ব্যান্ডে যুক্ত ছিলেন। সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে নিজে গঠন করেন নতুন ব্যান্ড এলআরবি।

প্রথম গান: হারানো বিকেলের গল্প

প্রথম একক অ্যালবাম: রক্তগোলাপ (১৯৮৬)

অন্যান্য একক অ্যালবাম: রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কি! (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩), পথের গান (২০০৪), ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬), জীবন (২০০৬), সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯) এবং জীবনের গল্প (২০১৫)।

কেরিয়ারে ব্যান্ড অ্যালবাম: এলআরবি (১৯৯২), সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারী মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬) এবং যুদ্ধ (২০১১)।

তার জনপ্রিয় গানগুলো মধ্যে অন্যতম: ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘সেই তারাভরা রাতে’, ‘মাধবী’, ‘ঘুমভাঙা শহরে’, ‘বেলা শেষে’, ‘তিন পুরুষ’, ‘উড়াল দেব আকাশে’, ‘এক আকাশ তারা’, ‘নদীর বুকে চাঁদ, ‘হাসতে দেখ গাইতে দেখ’ এবং ‘বারোমাস’সহ বাচ্চুর কয়েকশ’ গান আজও দর্শক-শ্রোতাদের মুখে মুখে ভাসে।

এছাড়া আইয়ুব বাচ্চু অনেক মিশ্র অ্যালবামেও কাজ করেছেন। প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে গেয়েছেন অনেক চলচ্চিত্রেও। মৃত্যুর আগে  রংপুরে জিলা স্কুল মাঠে গত ১৬ অক্টোবর তিনি শেষ কনসার্ট করেন।

মৃত্যু: ১৮ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার রাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় আইয়ুব বাচ্চুর। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অচেতন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট