এতিমের টাকা লুটপাট করায় খালেদার সাজা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

এতিমের টাকা লুটপাট করায় খালেদার সাজা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিদেশ থেকে এতিমের নামে টাকা এনে লুটপাট করে খাওয়ায় বিএনপি নেত্রীর সাজা হয়েছে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন এতিমের টাকা যে চুরি করেছে তার জন্য আন্দোলন করছে বিএনপি।

রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার এতিমখানার কোন অস্তিত্ব নেই, এতিমরা একটা টাকাও পায়নি।

এতিমের টাকা সুদ আসলে বাড়লেও তা লুটপাট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলেই দেশ সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে লুটপাট করেন। এই রাজশাহীর উন্নয়ন করেছি। আর বিএনপির নেতা যদি জনগণের টাকা লুটপাট করেন। তাহলে তার নেতা-কর্মীরা কি করবেন, আপনারাই ভাবেন।

তিনি আরও বলেন, আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে বলে আজ এতো উন্নয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের নেতা এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহীর মেয়র হয়ে উন্নয়ন করেছেন। এবার তিনি মেয়র হতে পারেন নাই। এবার বিএনপির নেতা রাজশাহীর মেয়র হয়েছেন। আমরা অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করি নাই। আমরা রাজশাহীর উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছি।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে রাজশাহীতে আইসিটি পার্ক ও নভোথিয়েটার নির্মানের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার যে উন্নয়ন করে বিএনপি তা ধ্বংস করে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, লুটপাট ও হত্যা বিএনপির চরিত্র। এ সময় বিএনপি-জামায়াত রাজশাহীকে সন্ত্রাসের নগর করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন ৬৩টি জেলায় তারা বোমা ফাটিয়েছিল। রাজশাহীতে ৫ শ মানুষ পুড়িয়েছিল।

একাত্তরে আ. লীগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে বলে দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন দেশে আ.লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টায় তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের জনসভাস্থলে পৌঁছান। এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চলতি মেয়াদে এটি প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী দ্বিতীয় সফর।

প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেছেন তার মধ্যে রয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পুঠিয়ায় বারনই নদীতে ড্যাম নির্মাণ, ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহী (নর্থ) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ, ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নওহাটা ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট নির্মাণ।

এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের ৫ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, শহীদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের ৫ তলা একডেমিক ভবন নির্মাণ, দামকুড়া হাট কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আড়ানী ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, তানোর আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বাগমারা কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বিড়ালদহ কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, রাজশাহী মহানগরীর নবনির্মিত ৮টি থানা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী যে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তার মধ্যে রয়েছে- ১ হাজার ৫ শ কোটির টাকা ব্যয়ে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, প্রায় ৯ শ ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাশিয়াডাঙ্গা ও মেহেরচণ্ডীতে জিআইএস বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি মহিলা কলেজের ৬তলা ভিত বিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস নির্মাণসহ বড়াল নদীর ওপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, গোদাগাড়ী ও চারঘাটে ভূমি অফিস নির্মাণ, মাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক