এমবাপ্পের দাম ১৮০ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু কেন?

এমবাপ্পের দাম ১৮০ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু কেন?

এমবাপ্পেকে কেন রিয়াল কিনছে, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কেন ১৮০ মিলিয়ন? দলবদলের বাজারে ‘পাগলা হাওয়া’ বইছে। দু-এক মৌসুম আগেও অকল্পনীয় মনে হতো যে অঙ্ক, সেসব অঙ্কও শুনতে হচ্ছে এবার। এমন আগুন-গরম তপ্ত বাজারেও ১৮০ মিলিয়ন ইউরো শোনার পর দুবার ভাবতে হয়, কেন!

এমবাপ্পের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই। ১৮ বছরের এই কিশোর-কিশোর মায়া-মায়া মুখ যে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ধ্বংস করতে জানেন, সেটা ভালোভাবেই টের পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাবগুলো। ফ্রেঞ্চ লিগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের একক রাজত্বও শেষ হয়েছে এমবাপ্পের আবির্ভাবেই। তাই এই ফরাসির প্রতিভা কিংবা ক্ষমতা নিয়ে তাই প্রশ্ন নেই। গত মৌসুমই তার প্রমাণ।

ঝামেলাটাও কিন্তু ওই এক মৌসুম বলেই। মাত্র একটা মৌসুমই তো নজর কাড়া ফুটবল খেললেন এমবাপ্পে। ফুটবলে ‘ওয়ান সিজন ওয়ান্ডার’ তো কম আসেনি। তাই এক মৌসুম দেখেই কোনো খেলোয়াড়কে কেনার জন্য বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চিন্তাকে একটু বাড়াবাড়িই মনে হয়। সেটাও কিনা আগের রেকর্ডের প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরো বেশি দিয়ে।

১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে গত মৌসুমেই পল পগবাকে দলে টেনেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এর আগে দলবদলের চারটি বিশ্ব রেকর্ডই ছিল রিয়ালের। পগবার আগে যে রেকর্ডটি ছিল গ্যারেথ বেলের (১০০ মিলিয়ন)। বেলকে কিনতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর (৯৪ মিলিয়ন) রেকর্ড ভেঙেছিল রিয়াল। তবে মূল্যস্ফীতি গোনায় ধরলে রোনালদোই এখনো চূড়ায় আছেন। কারণ, ২০০৯ সালের ৯৪ মিলিয়নের সে অঙ্ক যে বর্তমানে ১২৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড এর মাঝেই ক্লাবকে যা দিয়েছেন, খুশিমনেই এ অঙ্ক আরেকবার দিতে রাজি থাকবে স্প্যানিশ ক্লাবটি। সে ক্ষেত্রে এমবাপ্পের ১৮০ মিলিয়ন ইউরোও এমনই কোনো বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে।

এখানেই ঝামেলার সৃষ্টি। পগবা, বেল কিংবা রোনালদোকে রেকর্ড গড়ে যখন তাঁদের দল টেনেছিল, তাঁদের বয়স তখন ছিল ২৩ ও ২৪ এর সীমায়। এর মানে, শীর্ষ পর্যায়রে ফুটবলে অন্তত চার-পাঁচ বছর খেলার পরই এঁদের ওপর জুয়া খেলেছে ক্লাব। সে হিসেবে এমবাপ্পের জন্য এমন জুয়া একটু বেশিই বড় দানের হয়ে যাচ্ছে না তো!

এবার দলবদলের শুরুতে ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন দর শোনা যাচ্ছিল মোনাকোর এই বিস্ময়-প্রতিভার জন্য। কিন্তু পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা আর্সেনালের (দলবদলের বাজারে কোনো কিশোর প্রতিভার নামের সঙ্গে আর্সেনালের নাম না জড়ানোই বিস্ময়কর!) মতো দলগুলো দৌড়ে ঢুকে পড়াতেই সে প্রস্তাব আকাশ ছুঁল। ১৯০ মিলিয়ন ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হলো এমবাপ্পের নামের পাশে।

এমন দাম শুনে হাসি ঠাট্টা শুরু হতে না হতেই বোমা ফাটাল মার্কা। রিয়াল নাকি ১৮০ মিলিয়ন ইউরো দিয়েই কিনে নিচ্ছে এমবাপ্পেকে। সিটি নাকি এতেও হতাশ না হয়ে নতুন দর হাঁকাতে যাচ্ছে। রিয়াল তবু ধাপে ধাপে টাকা দিতে চায়, এত বড় অঙ্ক জোগাড় করা হ্যাপা তো কম নয়। সিটি নাকি নগদেই কেনাবেচা করবে! কোচ পেপ গার্দিওলা তো বলেই দিয়েছেন, অর্থের দৌড়ে সিটির সঙ্গে পারবে না রিয়াল!

এমবাপ্পেকে দেখা হচ্ছে নতুন ‘থিয়েরি অঁরি’ হিসেবে। সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকার এমন দাগ রেখে গেছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলে, নতুন ‘অঁরি’কে দলে টানতে চায় সবাই। সে কারণেই হয়তো এমন অর্থের ঝনঝনানি। তবে একটা তথ্য পাদটীকা হিসেবে দিয়ে দেওয়া ভালো, জুভেন্টাস থেকে অঁরিকে টানতে মাত্র ১১ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল আর্সেনাল!

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট