এরদোগানকে রক্ষার সুপার হিরো

এরদোগানকে রক্ষার সুপার হিরো

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে উৎখাতে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান হয়। জনপ্রিয় এই রাষ্ট্রনায়ককে বাঁচাতে সেদিন রাস্তায় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল জনগণ।

গুলি ও ট্যাঙ্কের সামনে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া সেদিনের সেই সাহসী আহত-নিহত মুক্তিকামী জনতাকেই সুপার হিরো বলেছেন রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

অভ্যুত্থানের শুরুতে রাজধানী আংকারা আর সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে ছিল বিদ্রোহীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। অল্প সময়ের ব্যবধানে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখল করে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় সেনাবাহিনী।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী তুরস্কের মোট ৮,৬৫১ সৈনিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। তাদের সঙ্গে ছিল ২৪টি জঙ্গিবিমান, ৩৫টি বিমান,১৭২টি সাজোয়া যান, ৭৪টি ট্যাংক, ৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ ৩৭টি হেলিকপ্টার।

অভ্যুত্থানকারীদের দরকার ছিল সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশের এবং জনগণের সমর্থন আদায় করা। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা নস্যাত করে দেয় জানবাজ জনগণ। অভ্যুত্থানের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যায় তুরস্কের সাধারণ মানুষ। তারা কী করবে প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিল না।তবে তুরস্কের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধশীল ছিলেন।

শুরুতে বোঝা যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট এরদোগান কোথায় আছেন। কোন কোন খবরে বলা হচ্ছিল তিনি তুরস্কের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিমে এজিয়ান সাগর তীরের অবকাশ কেন্দ্র মারমারিসে আছেন। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে দেখা গেল সিএনএন এর তুর্কী ভাষার নিউজ চ্যানেলে। মোবাইল ফোনে ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান প্রতিহত করার ডাক দেন।

এ আহ্বানের অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। ট্যাংকের নিচে জীবন দিতে প্রস্তত হয় তুর্কিরা। বিদ্রোহী সেনা সদস্যরা গুলি চালায়। নিহত হয় ১৫১জন এবং আহত হয় ২ হাজার ২০০ জন তুর্কি নাগরিক। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল গুল হুলুসি আকার এই অভ্যুত্থানের সাথে ছিলেন না। সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলে ছিল যে সেনা ডিভিশন, তার অধিনায়কও এই অভ্যুত্থান সমর্থন করেননি।

নৌবাহিনী প্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর প্রধানও অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন। এফ-সিক্সটিন জঙ্গী বিমান থেকে অভ্যুত্থানকারীদের অবস্থানে বিমান হামলাও চালানো হয়। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে রক্ষায়, তুরস্কের গণতন্ত্র রক্ষায় দেশটির সাধারণ মানুষ অকাতরে জীবন দিতে শুরু করে।

সেদিনের সেই ঘটনায় মৃত্যু বা বন্দি হওয়া থেকে এরদোগানকে রক্ষা করা এবং তুরস্কের গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের হিরোর আসনে বসিয়ে দেন সাধারণ মানুষ। এদিকে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে হত্যার জন্য তিনটি হেলিকপ্টার ছুটে যায়। তবে তারা এরদোগানের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

হেলিকপ্টার তিনটি যখন অভিযানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে তখন এরদোগান দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের মারমারায় অবকাশ যাপন করছিলেন। সেখানেই তাকে হত্যা কিংবা বন্দি করার জন্য হেলিকপ্টারগুলো পাঠানো হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান অবকাশ কেন্দ্রের যে হোটেলে ছিলেন সেখানে ৪০ বিদ্রোহী সেনা ঢুকে পড়েছিল এবং তারা বোমা হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট