এর আগে বল টেম্পারিংয়ে জড়িয়ে ছিলেন সচীন-দ্রাবিড়-আফ্রিদিরাও  

এর আগে বল টেম্পারিংয়ে জড়িয়ে ছিলেন সচীন-দ্রাবিড়-আফ্রিদিরাও  

জন্মলগ্ন থেকে যত রকমের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাইশ গজ, বল বিকৃতি তাদের মধ্যে অন্যতম৷ মুলত অতিরিক্ত সুইং ও টার্ন পাওয়ার জন্য ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন বলের কোন জায়গায় চুইনগাম কিংবা টেপের ব্যবহার করে আবার কখনো কোন শক্ত জিনিস দিয়ে ঘষে বলের স্বাভাবিক উপরিভাগকে অমশ্রিন করে দেওয়ার নামই হল বিকৃতি (বল টেম্পারিং)৷

ক্রিকেটের নিয়ম বিরুদ্ধ এই পদ্ধতি অবলম্বনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের লেভেল-টু এর অন্তর্ভুক্ত অপরাধ৷ এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তির ১০০ শতাংশ ম্যাচ ফি কাটা যাওয়া কিংবা কয়েক ম্যাচে নির্বাসন পর্যন্ত হতে পারে৷

অজি-প্রোটিয়া চলতি টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচের তৃতীয় দিনে ক্যাঙ্গারুসদের ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রাফটের বল বিকৃতির পর প্রমাণ লুকোনোর ভিডিও সামনে আসে৷ বিষয়টি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তোলপাড় হয় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব৷ তবে বাইশ গজে বল বিকৃতির ঘটনা এই প্রথম নয়৷ আগেও বহুবার বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা বল বিকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে শাস্তি ভোগ করেছেন৷

কাকতালীয় ভাবে প্রথমবার টিভি ক্যামেররা মাধ্যমে বল বিকৃতির ঘটনা সামনে এসেছিল প্রোটিয়াদের একটি ম্যাচেই৷ ১৯৯৪ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচে ইংরেজ অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের বিরুদ্ধে বল বিকৃতির অভিযোগ সামনে আসে৷ বির্তকটি ‘ডার্ট ইন পকেট’ নামে পরিচিত৷ সেবারেও টিভি ক্যামেরায় দৌলতে বিষয়টি সামনে এসেছিল৷ বল বিকৃতিতে জড়িত থাকার অপরাধে মোটা অঙ্কের জরিমানা হয়েছিল আথারটনের৷

Related image

২০০১ সালে বল বিকৃতি বিতর্কে নাম জড়ায় ক্রিকেট ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরের৷ দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথে ভারত বনাম প্রোটিয়া ম্যাচে টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় সচিন বলের উপর কি যেন একটা খুঁটছেন৷ ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনিস মাস্টর ব্লাস্টারকে এক ম্যাচ নির্বাসন করলেও পরে দেখা যায় সচিন বলের উপর লেগে থাকা ঘাস সরাচ্ছিলে৷ পরে সমস্ত রকম অভিযোগ থেকে সচিনকে মুক্তি দেয় আইসিসি৷

২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়েতে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে বল বিকৃতির বিতর্কে জড়ান রাহুল দ্রাবিড়৷ তাঁর হাফ ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়৷ তবে বল বিকৃতিতে সবাইকে ছাপিয়ে যান পাকিস্তানের বোলাররা৷ ২০০৪ সালে ওয়াকার ইউনিস , আজহার মামুদ থেকে ২০১০ সালে শাহিদ আফ্রিদি বারে বারে বল-টেম্পারিংয়ে নাম জড়িয়েছে পাক-বোলারদের৷ ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বলে রীতিমত কামড় বসাতে দেখা যায় শাহিত আফ্রিদি-কে৷

Image result for cricket ball tampering

একই বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ইংরেজ পেসার অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের বিরুদ্ধে বল বিকৃতির অভিযোগ ওঠে৷ যদিও প্রোটিয়ারা অফিসিয়ালি অভিযোগ না জানানোর জন্য এদের কোন সাজা হয়নি৷

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট