এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নামছে দুদক

এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নামছে দুদক

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দুমন কমিশনের চেয়ার‌ম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি জানান, সিনহার ভাই সুশান্ত সিনহার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে করা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মামলার নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসে পৌছেছে। আজ বুধবার সকালে নথি দুদক কার্যালয়ে এসে পৌছায়।

নথি দুদকে আসার পর দুদক কী ব্যবস্থা নেবে এ প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তিনি অভিযোগটি বিচার বিশ্লেষণ করবেন। তাঁর দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সিনহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের বাইরে কিছুই করা হবে না।

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর সত্যতা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ার‌ম্যান বলেন, সবে তো ফাইল এলো। তদন্ত হবে, তারপর বলা যাবে কতটুকু সত্যতা আছে। তাছাড়া আদালত যেহেতু দুদকে নথি পাঠিয়েছেন তাই কিছু না কিছু হলেও তো সত্যতা আছে।

এর আগে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। শনিবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয় বলে জানা গেছে। মামলার এজাহারে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু জাফর আলী বিশ্বাস মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি তখন জানান, মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে পাঠানো হয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ব্যারিস্টার হুদার অভিযোগ, ‘২০১৭ সালের কোনো এক সময় এসকে সিনহা আমাকে তাঁর খাস কামরায় ডেকে নিয়ে আমার কাছে সোয়া তিন কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন।’ মামলা দায়েরের পর গতকাল রাতে ঢাকার এক গণমাধ্যমের কাছে এই দাবি করেন হুদা।

নাজমুল হুদার ভাষ্য, গত বছরের কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে এসকে সিনহা আমরা ঘুষ চান। তারিখটি এই মুহূর্তে তারিখটি মনে পড়ছে না, তবে মামলার এজাহারে লেখা আছে। একটি মামলা থেকে খালাস দেওয়ার জন্য ২ কোটি টাকা এবং আমার ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজ আবেদনের বিপরীতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন তিনি।

কেন ঘুষ চেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হুদা জানান, তাঁর নামে যেসব মামলা আছে, সেগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুষ চেয়েছিলেন। এছাড়া হুদাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, ঘুষ না দিলে যেসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, সেগুলো ফের শুনানি করা হবে।

বিএনপি সরকারের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীর অভিযোগ, আমি ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় আমরা মামলা নিয়ে অনেক উল্টা-পাল্টা করেছেন বিচারপতি সিনহা। একটি মামলার রায় সম্পূর্ণভাবে ঘোষণা করেছিলেন। পরে সেই রায় পাল্টে দিয়ে আগের রায়ের বিপরীত রায় দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এসব অভিযোগ আমি গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

ঘুষ চাওয়ার এতপরে কেন মামলা করলেন- জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাই এখন মামলা করেছি। তবে তিনি সিনহাকে কোনো ঘুষ দেননি বলেও এসময় দাবি করেন।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় নাজমুল হুদার মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশের পর তুমুল আলোচনার মধ্যে তার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার একটি অভিযোগের বিষয়ে সোমবার সকালেই অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অভিযোগ আছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার নামে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি বাড়ি কেনেন এস কে সিনহা। প্রায় চার হাজার স্কয়ার ফিটের বাড়িটির বাসিন্দা এস কে সিনহা নিজে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট