ওয়ার্নার-কাটিংয়ের ব্যাটিং ঝড়ে মুস্তাফিজদের রানের পাহাড়

ওয়ার্নার-কাটিংয়ের ব্যাটিং ঝড়ে মুস্তাফিজদের রানের পাহাড়

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শিরোপা জয়ের হাতছানি মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর সামনে। শিরোপা জয়ের এই ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুকে ২০৯ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে হায়দ্রাবাদ।

বেঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং স্বর্গে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দলনেতা ডেভিড ওয়ার্নার। বেঙ্গালুরু দলে কোন পরিবর্তন না থাকলেও হায়দরাবাদ দলে টেন্ট বোল্টের জায়গায় ফিরেছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও শিখর ধাওয়ান আগ্রাসী সূচনা করেন। ধাওয়ান কিছুটা দেখেশুনে খেললেও ওয়ার্নার দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

বেঙ্গালুরুর হয়ে কোন বোলার ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে দাপট দেখাতে পারেনি। ফলে ৬ ওভার শেষে ৫৯ রান তুলে নিয়ে বড় সংগ্রহের আভাস দেয় ওয়ার্নার-ধাওয়ান জুটি।

কিন্তু পাওয়ারপ্লের পরের ওভারে লেগ স্পিনার চাহালের গুগলিতে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ধাওয়ান। ২৫ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। তিন নম্বরে নামা মোজেজ হেনরিকেজ ওয়ার্নারকে সঙ্গ দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

ক্রিজ জর্ডানের করা ১০ম ওভারে লেগ সাইডে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন তিনি। ৫ বল করে ৪ রান করেন তিনি। উইকেট হারালেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করে মাত্র ২৪ বলে নিজের অর্ধশত রানে পৌঁছে যান হায়দরাবাদ কাপ্তান ওয়ার্নার।

পরবর্তীতে চার নম্বরে নামা যুবরাজ সিংয়ের সাথে জুটি গড়ে ১১তম ওভারে দলের স্কোর শত পার করেন ওয়ার্নার। কিন্তু ১৪তম ওভারে বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। আরভিন্দের লেন্থ বলে কাভারের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ওয়ার্নার।

৩৮ বলে ৮ চার ও ৩ ছয়ের সাহায্যে ৬৯ রান করেন তিনি। উইকেট হারালেও হায়দরাবাদের রানের চাকা সচল রাখেন যুবরাজ সিং। দিপক হুদার সাথে জুটি গড়ে ভালোই লড়াই করে যান তিনি।

কিন্তু ১৬তম ওভারে আবারো আঘাত হানে আরভিন্দ। তুলে নেনে হুদার উইকেট। দলের স্কোর তখন ১৪৭ রান ৪ উইকেটের বিনিময়ে। পরের দারুন খেলতে থাকা যুবরাজকে সাজঘরে ফেরান ক্রিজ জর্ডান।

অফ ষ্ট্যাম্পের বাইরে বল কাভারে খেলতে গিয়ে ৩৮ রান করে ওয়াটসনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। কয়ালিফায়ার ম্যাচে ভাল খেলা বিপুল শর্মাকেও আউট করেন জর্ডান। কিন্তু আরেকপ্রান্তে বেন কাটিং দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

শেন ওয়াটসনের করা ইনিংসের শেষ ওভারে তিনটি ছয় ও একটি চারের সাহায্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে হায়দরাবাদের স্কোর ২০৮ রানে পৌঁছে দেন বেন কাটিং। ১৫ বলে ৩৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকেন এই অজি অলরাউন্ডার।

বেঙ্গালুরুর হয়ে জর্ডান তিনটি ও আরভিন্দ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রথমবারের মত ফাইনাল জয়ের জন্য ভিরাট কোহলিদের প্রয়োজন ২০৯ রান।

 

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট