ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে ভারতের সিরিজ জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে ভারতের সিরিজ জয়

যেন একদলের সঙ্গে আরেক দলের ব্যাটিং শক্তির লড়াই। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই দলের ব্যাটিংটাই ছিল বড় বিজ্ঞাপন। বুধবার সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভারত অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করল। রানের পাহাড় গড়ে জিতে নিল সিরিজ।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এদিনের ম্যাচটি ৬৭ রানে জিতে নেয় ভারত। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৪০ রান করেছিল ভারত। টি-টোয়েন্টিতে যা তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে ৮ উইকেটে ১৭৩ রানে থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস।

ভারতের হয়ে বুধবার নিশ্চিত সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন লোকেশ রাহুল। তিনি ব্যক্তিগত ৯১ রানের মাথায় আউট হয়ে ফেরেন। ৫৬ বলের ইনিংসে তার ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছয়। এদিন তিনি ২৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। এদিকে স্বাগতিকদের আরেক ওপেনার রোহিত শর্মার ব্যাটে ছোটে আগুন। এ ডানহাতি  ২৩ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষমেশ ৬টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ বলে ৭১ রান করে আউট হন হিটম্যান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে খাতা খুলতে পারেননি ঋষভ পন্ট। গত ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করে দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন শিবম দুবে। অজানা কারণে ঘরের মাঠে এদিন সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন তিনি। তবে চারে ব্যাট হাতে নেমে ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন বিরাট কোহলি। সে ধারাবাহিকতায় এ ডানহাতি ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা সাহায্যে ২১ বলে ৫০ রানে পৌঁছান। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন ভারত অধিনায়ক। তার আগে তিনি ৪টি চার ও ৭টি ছয় হাঁকান। তাতে ভারত পেয়ে যায় বিশাল পুঁজি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন কটরেল, উইলিয়ামস ও পোলার্ড।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সব থেকে বেশি ২২৯ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ইংল্যান্ডের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৩০ রান তুলে ম্যাচ জিতেছিল ইংলিশরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুম্বাইয়ে দু’টি ম্যাচে ১৮২ ও ১৯২ রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছিল। যার মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালও রয়েছে। তবে বুধবার ক্যারিবিয়ানদের সামনে লক্ষ্যটা নিঃসন্দেহে ছিল চ্যালেঞ্জিং। যে কারণে এদিন রান তাড়ায় শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল সফরকারীরা। তারপরও দলটির আশা দেখাচ্ছিলেন কিরণ পোলার্ড ও সিমরন হেটমায়ার। এ দুই ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেট জুটিতে তুলেছিলেন ঝড়। করেছিলেন ৩৮ বলে ৭৪ রান। কিন্তু এরপরই হেটমায়ার ২৪ বলে ১ চার ও ৫ ছয়ে কুলদ্বীপ যাদবের বলে আউট হলে ফের বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যা দলটির আরো বেড়ে যায় জেসন হোল্ডার দ্রুত ফিরে গেলে। তাকেও তুলে নেন যাদব। তারপরও একপ্রান্ত আগলে নিজের মতোই খেলছিলেন পোলার্ড। কিন্তু যোগ্য সঙ্গীর অভাবে এ ডানহাতির ওপর বেড়ে যায় চাপ। শেষ পর্যন্ত তাতে তিনি পরাজিত হন। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে দ্বাদশ খেলোয়াড় মনিশ পান্ডের হাতে ধরা পড়ার আগে ক্যারিবীয় অধিনায়ক করেন ৩৯ বলে ৫ চার ও ৬ ছয়ে ৬৮ রান। শেষ দিকে কেসরিক উইলিয়ামের ৭ বলে ১ চার ও ১ ছয়ে ১৩ রান শুধু সফরকারীদের পরাজয়ের ব্যবধান কমায়।

ভারতের হয়ে দিপক চাহার ২০ রানে নেন ২টি উইকেট। এদিকে ভুবনেশ্বর কুমার ৪০ রানে, মোহাম্মদ শামি ২৫ রানে আর কুলদ্বীপ যাদব ৪৫ রানে নেন ২টি করে উইকেট।

ব্যাট হাতে ৯১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরা হয়েছেন লোকেশ রাহুল। এদিকে পুরো সিরিজে ধারাবাহিভাবে ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে বিরাট কোহলি নিজের করে নিয়েছেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট