কর্মজীবন আনন্দময় করে তোলার উপায়

কর্মজীবন আনন্দময় করে তোলার উপায়

বর্তমান যুগে আমরা সবাই কম-বেশি ক্যারিয়ার সচেতন। ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজ করতে হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে সময় কাটানোর পর পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমরা প্রতিদিন কি ধরণের কাজ করছি, কতটুকু করছি, কিভাবে করছি তার ওপরেই নির্ভর করে আমাদের সাফল্য। পরবর্তী দিনের জন্য কাজের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি পায়, আরও সফলতা অর্জন করা যায়। তবে পরিকল্পনার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন। এর জন্য অফিস শেষে বিকেল বা সন্ধ্যা কাজে লাগাতে যায়। এতে যেমন নিজেকে ফ্রেশ অনুভব করবেন, তেমনি নতুন দিনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

প্রতি সন্ধ্যায় পরিকল্পনার জন্য সময় নিন- যেকোনো কাজে সাফল্য পাওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে পরিকল্পনামাফিক কাজ করা। কারণ আপনি যা পরিকল্পনা করবেন, তা আপনার কাজের ধরণকে নির্দিষ্ট করে দেবে। ফলে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে, বা ভুল পদ্ধতিতে কাজ করে সময় নষ্ট করার ঝুঁকি থাকে না। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যায় আপনি আপনার কাজ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে পারেন। বিশ্লেষণের শুরুটা হতে পারে আপনার আজকের কাজ দিয়ে। আজকে সারাদিনে কি কি কাজ করেছেন, কি ধরণের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, কোনো ভুল হয়েছে কি না, কিভাবে করলে আরও ভালো হতো এগুলো চিন্তা করুন। একসময় যখন আজকের কাজের ফলাফল হাতে পেয়ে যাবেন, তখন আগামীকাল কি করবেন তা নিয়ে ভাবুন। আগামীকালের করণীয় কাজ নিয়ে একটি পরিকল্পনা করুন। তারপর চোখ বন্ধ করে মস্তিষ্ক শান্ত করুন, আগামীকালের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন।

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান- একটি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য আপনার আশেপাশের মানুষের সাথে মেশাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই সপ্তাহ শেষে ছুটির দিনে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করুন। সবার সাথে মিশুন, মতামত ব্যক্ত করুন। কাজ নিয়ে আলোচনা করুন।

নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ান- সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো নতুন কিছু শেখার মাধ্যম হতে পারে আপনার জন্য। যেমন, কাজের কোনো বিষয়ে আপনি আটকে গেছেন, বা কি করতে হবে জানেন না। আপনার সমস্যা অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। তারা কি করেছে তা জানুন, পরামর্শ নিন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়াও ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষণীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করতে পারেন। যেমন, জাদুঘর। সামাজিক সচেতনতা মূলক ইভেন্টেও অংশ নিতে পারেন। এতে আপনার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি দুটোই বাড়বে।

বেশি বেশি বই পড়ুন- বই এর চাইতে নিঃস্বার্থ বন্ধু আর কেউ হতে পারে না। বই পড়ার অভ্যাস আপনার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করবে। তাই সময় বের করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অন্তত ৩০ মিনিট হলেও বই পড়ুন। বই পড়লে আপনার ভেতরে ক্লান্তি, অবসাদ, টেনশন, মানসিক চাপ দূর হবে।

এছাড়াও, বই পড়লে ঘুম ভালো হবে। ফলে পরের দিনের জন্য ফ্রেশ একটি শুরু করতে পারবেন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন- অনেক কর্মমুখী মানুষই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন না, কিংবা নিতে পারেন না। কারণ, তারা বেশি কাজ করে তাদের কাজের লক্ষ্যকে সফল করতে চান। নিজের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মক্ষেত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে চান। এটি অবশ্যই একটি ভালো দিক। কিন্তু পর্যাপ্ত না ঘুমালে বা বিশ্রাম না নিলে শারীরিক অবসাদ ও ক্লান্তি আপনার কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেবে। তাই প্রতিদিন সাড়ে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রাতে কম জেগে বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে পার করুন। এতে শরীরে শক্তি সঞ্চিত থাকবে, যা আপনি পরের দিনের জন্য কাজে লাগাতে পারবেন।

এ বিষয়গুলো মেনে চললে কর্মদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে। আপনি ভুল না করেই অনেক কাজ শেষ করে ফেলতে পারবেন। এতে নিজের প্রতি যেমন বিশ্বাস বাড়বে, তেমনি আপনার কাজের ক্ষেত্রও আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট