কিশোরী বিউটি হত্যা: ধর্ষক বাবুল গ্রেপ্তার

কিশোরী বিউটি হত্যা: ধর্ষক বাবুল গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যা বের অ্যাডিশনাল এসপি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শনিবার বিয়ানীবাজার এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়।

এর আগে স্কুলছাত্রী বিউটি আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুলের শ্বশুর আব্দুল কাদির (৫০), খালা জহুর চাঁন বিবি (৬০) ও খালাত বোন ঝুমা আক্তারকে (২০) জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ফরিদ মিয়ার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

গত ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় শায়েস্তাগঞ্জের পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে স্কুলছাত্রী বিউটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ওই দিনই বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুই জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মার্চ বাবুলের মা কলম চাঁন ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ।

গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি সদস্য কলম চাঁনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার -২৯ মার্চ দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ও সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।

কিশোরীর বাবা বিবিসি বাংলাকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর অভিযুক্ত যুবকের হুমকির কারণে তিনি তার মেয়েকে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একটা হাওর থেকে কিশোরীর ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে গত ১৭ই মার্চ। এর সপ্তাহ দুয়েক আগে ৪ঠা মার্চ মেয়েটির বাবা সায়েদ আলী আদালতে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন।

নিহত মেয়েটির বাবা সায়েদ আলী জানিয়েছেন, তার দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত যুবকের মা তাদের ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। গ্রামে এই মেম্বারের প্রভাবের কারণে প্রথমে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। তিনি তার মেয়েকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার চান।

শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমেও সমাধানের চেষ্টা করে সময়-ক্ষেপণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এজাহারে উল্লেখ আছে, ভিকটিম বাবুলের সাথে ভালবাসা করে চলে যায় ২১শে জানুয়ারি। সে ১৮দিন ছিল তার সাথে। এরপর বাড়িতে চলে আসে। তখন সালিশ সহ বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা হয়। কিন্তু ছেলেটা যখন বিয়ে করতে রাজি হয় না তখন ধর্ষণ মামলা করে। পুলিশ এর তদন্ত শুরু করে, তখনই মেয়েটাকে হত্যা করে।

ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে মেয়েটির মৃতদেহ পওয়ার পরদিনই ১৮ই মার্চ। কিন্তু এখনও সেই রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়নি।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
নিজস্ব প্রতিবেদক