কেন এত স্পর্শকাতর হারাম আল-শরিফ স্থানটি?

কেন এত স্পর্শকাতর হারাম আল-শরিফ স্থানটি?

পূর্ব জেরুসালেমে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার কারণে হারাম আল-শরিফে ঢোকার পথে মেটাল ডিটেক্টরসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনি মুসলিমদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। এটাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তিনজন ফিলিস্তিনি ও তিনজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে।

কিন্তু এই হারাম আল-শরিফ জায়গাটি কেন এত স্পর্শকাতর? এর কারণ এই জায়গাটি ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি- এই তিন ধর্মের কাছেই পবিত্র স্থান এবং একে নিয়ে শত শত বছর ধরেই এ টানাপড়েন চলছে।

ইহুদিদের কাছে হারাম আল-শরিফ এলাকাটির নাম ‘টেম্পল মাউন্ট’ এবং এটিই তাদের ধর্মে সবচাইতে পবিত্র স্থান। ইহুদিরা বিশ্বাস করে, এখানেই নবী আব্রাহাম (ইব্রাহিম) তার পুত্র ইসমাইলকে উৎসর্গ করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এখানেই ছিল ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির, যা ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান বাহিনী ধ্বংস করে দেয়। এখানে একটি ব্যাসিলিকাও ছিল যা একই সাথে ধ্বংস হয়। সেই মন্দিরের শুধুমাত্র পশ্চিম দিকের দেয়ালটিই এখনো টিকে আছে এবং এটিই এখন ইহুদিদের ধর্মীয় প্রার্থনার স্থান।

অন্যদিকে মুসলিমদের কাছে ‘হারাম আল-শরিফ’ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্র স্থান। প্রথম যুগের মুসলিমরা মক্কার আগে এর দিকে ফিরেই নামাজ পড়তেন।

এখানে প্রথম ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর, পরে ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে এখানে প্রথম বড় আকারে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। দুই দফা ভূমিকম্পে দুইবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা পরে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর কিছুটা দূরেই আছে সোনালি গম্বুজবিশিষ্ট ‘ডোম অব দি রক’ বা ‘কুব্বাত আল-শাখরা’। ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা এ জায়গাটি দখল করে নিলে তারা ‘ডোম অব দি রক’কে একটি গির্জা হিসেবে এবং আল-আকসাকে রাজপ্রাসাদ ও নাইট টেম্পলারদের দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করে।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম ও পশ্চিমতীর দখল করে নেবার আগে এটি নিয়ন্ত্রণ করতো জর্ডন। এখন পূর্ব জেরুজালেম ইসরায়েল অধিকৃত। তবে আল-আকসা বা টেম্পল মাউন্ট এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করে একটি জর্ডন-ফিলিস্তিনি ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান।

এখন ইসরায়েলিরা আল-আকসা এলাকায় যেতে পারে, কিন্তু এখানে তাদের প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ। তার ওপর এই এলাকায় প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এটিকে ফিলিস্তিনিরা ওয়াকফের কর্তৃত্বের লংঘন এবং ইসরায়েলি দখলদারির দৃষ্টান্ত বলে আখ্যায়িত করছেন।

তবে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ এটিকে একান্তই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখাতে চাইছে। কারণ মসজিদ এলাকাতেই এক সপ্তাহ আগে এক আক্রমণে দুজন ইসরায়েলি পুলিশ নিহত হয়।

কিন্তু এই আল-আকসা এলাকাটিতে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড প্রায় প্রতিবারই বিক্ষোভ-সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। এই জায়গাটি এতই স্পর্শকাতর যে এবার কোনো সহিংস ঘটনা শেষ পর্যন্ত আরো একটি ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থান ডেকে আনবে কিনা- এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেন না।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট