কেমন হবে ওয়াক ইন ইন্টারভিউ প্রিপারেশন

কেমন হবে ওয়াক ইন ইন্টারভিউ প্রিপারেশন

চাকরির জন্য ইন্টারভিউয়ের ডাক পেলেই তৈরি হয় অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু, সেখানে পৌঁছলেই দেখা দেয় উদ্বেগ। কারণ, ওয়েটিং রুমে তখন চাকরি পেতে হাজির আরও অনেকে। ইন্টারভিউয়ে তাদের সবাইকে পিছনে ফেলে আপনাকে নিতে হবে চাকরিটি। কিন্তু কীভাবে ? প্রয়োজন এমন কিছু প্রস্তুতির যা অন্যদের পিছনে ফেলে আপনাকে করে তুলবে চাকরিটির প্রথম দাবিদার। এক্ষেত্রে প্রস্তুতির জন্য কিছু পরামর্শ রইল চাকরি প্রার্থীদের জন্য।

১) প্রথমেই আপনার জেনে নেওয়া দরকার, যে সংস্থায় ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন সেই সংস্থার ইতিবৃত্তান্ত। ভাবতে পারেন কীভাবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি অনায়াসে সেই সংস্থা সম্বন্ধে তথ্য জেনে নিতে পারেন। এতে কম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে ধারণা পাবেন আপনি। ইন্টারভিউয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে কেন আপনি ওই কম্পানিতে কাজ করতে চাইছেন ? হোমওয়ার্ক করা থাকলে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে সুবিধে হবে।

২) ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার আত্মবিশ্বাস থাকবে ইতিবাচক। আবেদনপত্রে নিজের সম্বন্ধে যে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তা নিয়ে সতেচন থাকতে হবে। প্রশ্নকর্তারা আপনার কাছে আপনার নিজের বিবরণ জানতে চাইতে পারেন। প্রশ্ন তুলতেই পারেন, দুর্বলতা ও শক্তিশালী পয়েন্ট নিয়েও। এ বিষয়ে আপনার সাবলীলতা ও সচেতনতা থাকা ভীষণ প্রয়োজন।

৩) পোশাক-আশাকের মধ্যে একটা রুচিশীলতা বজায় থাকা বিশেষ জরুরি। এবং সেটি কখনই ক্যাজ়ুয়াল হবে না, হতে হবে ফর্মাল। ডিপ কালারের ট্রাউজারের সঙ্গে উজ্জ্বল রঙের শার্ট পরতে পারলে ভালো। তবে শার্ট যদি ফুল হাতা হয়ে থাকে, তাহলে ভুল করেও জামার হাতা গোটাবেন না। খেয়াল রাখবেন, জুতো যেন সাধারণ ও পালিশ করা থাকে। আর চুলও যেন থাকে পরিপাটি। এলোমেলো চুলে না যাওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে আপনাকে অগোছালো ও বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। আর মহিলারা রঙচঙে নেল পলিশ এড়িয়ে চললে ভালো হয়।

৪) নির্দিষ্ট সময়ের একটু আগে পৌঁছবেন বই পরে নয়। পারলে অন্তত আধ ঘণ্টা আগে পৌঁছন। এতে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবেন। মানসিক চাপ কমিয়ে থাকতে পারবেন স্বাভাবিক। আরও একটি সুবিধে আছে। আগে গেলে ইন্টারভিউয়ের জন্য আগে ডাক পাবেন। যাঁরা আপনার ইন্টারভিউ নেবেন, প্রথমদিকে তাঁরা ফ্রেশ মুডে থাকেন। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তাঁদেরও আপনাকে মনে রাখতে সুবিধে হবে।

৫) একদিন আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন নিজের বায়োডেটা, যাবতীয় সার্টিফিকেট ও পরীক্ষার মার্কশিট। একটি ফোল্ডারে তা গুছিয়ে নিয়ে যান। যা জানতে চাওয়া হচ্ছে তার যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলে ভালো। অর্থাৎ, যেটুকু জানতে চাওয়া হবে শুধু সেটুকুই উত্তর দেবেন। কোনও প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকলে, এদিক ওদিক তাকিয়ে মনে করার চেষ্টা করে সময় নষ্ট করবেন না। সরাসরি বলে দেবেন, জানি না। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আগে থাকতে হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং, যখন যেটা চাওয়া হবে তখন সেটা এগিয়ে দিন।

৬) যতটা সম্ভব শান্ত ও সংযত থাকার চেষ্টা করতে হবে। ইন্টারভিউ রুমে গিয়েই চেয়ারে বসে পড়বেন না। অপেক্ষা করুন। বসতে বললে তবেই বসুন, সঙ্গে বলুন ধন্যবাদ।

৭) কথা বলার সময়, চোখে চোখ রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করুন। ইন্টারভিউ শেষ হলে সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না। বেরিয়ে আসার সময় মাথা নিচু করে নয়। মাথা উঁচু করে বেরোবেন। শেষ সময় পর্যন্তও আপনার মধ্যে যেন হতাশার কোনও চিহ্ন দেখা না দেয়। খেয়াল রাখতে হবে সেদিকেও।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট