কোনো সাংবাদিককে হয়রানির উদ্দেশে ৫৭ ধারার প্রবর্তন করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

কোনো সাংবাদিককে হয়রানির উদ্দেশে ৫৭ ধারার প্রবর্তন করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীকে হয়রানি বা নির্যাতনের উদ্দেশ্যে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার প্রবর্তন করা হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা সঠিক নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে যেন তাদের কাজ করতে পারেন, সেজন্যই এ ধারা।

২৪ জুলাই সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আন্দোলন করছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান ৫৭ ধারায় কত জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, কেউ যদি দেশের সুনাম ক্ষুন্ণ করার জন্য রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা লেখে অথবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়াই কোনো নিউজ লেখে তাহলে কি হবে, তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া যাবে না?

মন্ত্রিসভায় আজ ডি-৮ সদস্যদেশগুলোর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব এম শফিউল আলম ব্রিফকালে সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৬ সালে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ৮টি মুসলিম দেশের ডি-৮ ফোরাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু এর অনুমোদন ঝুলে ছিল।

সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা কিছু পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন-২০১৭’র খসড়া ফেরত পাঠিয়েছে। এটি প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ পুনরায় মন্ত্রিসভায় পেশ করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে ২০১৭ ও ২০১৬ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্তের তুলনামূলক প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে ৯টি বৈঠকে নেয়া ৭৪টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৫৩টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২১টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই সময়ে ২টি নীতি/কৌশল ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১১টি সমঝোতা স্মারকের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া পার্লামেন্টে পাস হওয়া ৫টি আইনের অনুমোদনও দেয়া হয়।

এর পূর্ববর্তী ২০১৬ সালের একই সময়ে ১১টি বৈঠকে নেয়া ৯২টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৬৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সময়ে ২টি নীতি/কৌশল এবং ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত এবং জাতীয় সংসদে ২০টি আইন প্রণীত হয়েছে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
নিজস্ব প্রতিবেদক