কে পাশ, কে ফেল, দেখুন টলি নায়িকাদের হাফ ইয়ারলি মার্কশিট

কে পাশ, কে ফেল, দেখুন টলি নায়িকাদের হাফ ইয়ারলি মার্কশিট

বছরের মাঝখানে হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা হত মনে আছে তো? মান্থলি টেস্ট বা উইকলি টেস্টের থেকে ধারে ও ভারে সে ছিল বেশ খানিকটা এগিয়ে। অ্যানুয়ালের আগে নিজেকে বড় করে পরখ করে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ। এমন কত পরীক্ষাই তো নিত্যদিন সামলাচ্ছি আমরা। তবে হাফ ইয়ার্লির মেজাজটাই আলাদা। তা থেকে নায়িকারাই বা বাদ যাবেন কেন? তাঁদের কেরিয়ারেও বছরের মাঝামাঝি রেজাল্ট আউটটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। টলিউডের হাফ ইয়ারলিতে এক এক নায়িকার পারফরম্যান্সের গ্রাফ এক এক রকম। খোঁজ নেওয়া যাক সেই রিপোর্ট কার্ডের।

সোহিনী সরকার

নিজের মতো করে কাজ করবেন বলে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সোহিনী। আনন্দবাজারকে বলেছিলেন, ‘‘আমার চার দেওয়ালের মধ্যে তো আমিই শ্রেষ্ঠ। তাই আমার যেটা ভাল মনে হবে, যে কাজটা আমাকে কিক দেবে মনে হবে, সেটাই করব।’’ বছরের ফার্স্ট হাফে সেই কিক দেওয়ার কাজই বেছে নিয়েছেন তিনি। ২০ জানুয়ারি মুক্তি পায় মৈনাক ভৌমিকের পরিচালনায় ‘বিবাহ ডায়েরিজ’। ঋত্বিক-সোহিনীর জুটি পছন্দ করেছিলেন দর্শক। এরপর অরিন্দম শীলের ‘দুর্গা সহায়’। ২৮ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। ডিগ্ল্যামারাইজড লুকে ছবির মধ্যমণি তিনি। সোহিনীকে ভাল লেগেছে দর্শকদের একটা বড় অংশের। তবে সমালোচকদের মতে, ছবিটা তেমন দাগ কাটেনি।

পাওলি দাম

ছয়ে ছয়। পাওলির ক্ষেত্রে এ কথাটাই বোধহয় প্রয়োজ্য। ২০১৭-এর প্রথম ছ’মাসে ছ’টি ছবি করে ফেলেছেন পাওলি দাম। কোয়ান্টিটিতে তিনি ফার্স্ট গার্ল। কিন্তু কোয়ালিটিতে? সে বিচারের ভার দর্শকের। তবে তালিকায় নজর দিলে দেখবেন, চলতি ধারার থেকে বেশ কিছুটা হটকে পাওলি। মহিলা দেবদাসকে নিয়ে টলিউডে এই প্রথম ছবি হল। সৌজন্যে ঋক বসুর ‘দেবী’। দীর্ঘদিন পরে ছবি করলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। ‘টোপ’। সেখানেও মুখ্য ভূমিকায় পাওলি। তাই প্রথম ছ’মাস ঝুলি পূর্ণ তাঁর।

জয়া আহসান

হতে পারে তিনি ঢালিউডের নায়িকা। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে টলিউডেও জমিয়ে কাজ করছেন জয়া আহসান। ২০১৬-এর প্রথম ছ’মাসে জয়ার হাতে ছিল মাত্র একটি ছবি। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিসর্জন’। কিন্তু একটাতেই বাজিমাত্ করেছেন তিনি। স্টেপ আউট করে ছয় মারা যাকে বলে। এই ছবি বাণিজ্য সফল তো বটেই, আর জয়ার অভিনয় আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে। তাই জয়ার মার্কশিট বেশ ভাল বলেই মনে করছেন দর্শক।

মিমি চক্রবর্তী

২০১৭ যেন মিমির কাছে যেন চমকে দেওয়ার বছর। ব্যক্তিগত জীবনে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ব্রেকআপ হয়েছে। সে নিয়ে একাধিকবার শিরোনামে এসেছেন। তবে এ বছরই কেরিয়ারে একটা মাইলস্টোন পেরিয়ে গেলেন নায়িকা। সৌজন্যে পরিচালক জুটি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ছবি ‘পোস্ত’। চেনা মিমিকে একেবারে বদলে ফেলেছিলেন তাঁরা। নো-মেকআপ লুকে মিমিকে এই প্রথম অনস্ক্রিন দেখলেন দর্শক। বাণিজ্য সফল ছবিতে মিমি আলাদা করে নজর কেড়েছেন।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

ফার্স্ট হাফে স্বস্তিকার হাতে ছিল মাত্র একটি ছবি। সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘অসমাপ্ত’। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, বাণিজ্যিক ভাবে সফল হয়নি ছবিটি। তবে ব্রাত্য বসু ও স্বস্তিকাকে একেবারে নতুন জুটি হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির করেছিলেন সুমন। সেকেন্ড হাফে স্বস্তিকার কাছে আরও ভাল রেজাল্ট আশা করছেন দর্শক।

রুক্মিণী মৈত্র

আদ্যন্ত মডেলিংয়ে মজে ছিলেন মেয়েটি। গত ১০ বছর ধরে মডেলিং দুনিয়ায় নিজস্ব জমি তৈরি করেছিলেন। তিনি রুক্মিণী মৈত্র। টলিউডে এন্ট্রি তাঁর বিশেষ বন্ধু দেবের হাত ধরে। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘চ্যাম্প’ রুক্মিণীর ডেবিউ ফিল্ম। আর তিনিই বোধহয় হাফ ইয়ারলির সেরা আবিস্কার। ছবিটি দেখার পর বেশিরভাগ দর্শকের মনে হয়েছে, এটাই যে ডেবিউ ফিল্ম তা রুক্মিণীর স্বাভাবিক অভিনয় দেখে একেবারেই মনে হয়নি।

শুভশ্রী

কেরিয়ারের থেকেও পার্সোনাল লাইফ নিয়ে বছরের প্রথম ছ’মাসে বেশি বার হেডলাইনে এসেছেন শুভশ্রী। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙেছে তাঁরও। প্রকাশ্যেই সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন দু’জনেই। কিন্তু ছবির ভাঁড়ার তেমন ভরেনি। সোহমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘আমার আপনজন’-এ অভিনয় করেছেন। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি। এ ছাড়াও জিতের সঙ্গে ‘বস ২’-এ কাজ করেছেন নায়িকা।

নুসরত

টলিউডে বাণিজ্যিক ছবিতে নিজের জায়গা প্রায় পাকা করে নিয়েছেন নুসরত। যশের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘ওয়ান’-এ কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়াও ‘আমি যে কে তোমার’-এ নুসরতকে দেখেছেন দর্শক। তবে ছবিগুলিকে বাণিজ্য সফল বলা যায় কী? প্রশ্নটা উঠছে টলিউডের অন্দরেই।

তনুশ্রী

হাফ ইয়ারলিতে তনুশ্রীর ঝুলিতে একটাই ছবি। অরিন্দম শীলের ‘দুর্গা সহায়’। তিনি ছিলেন পরিচালকের অন্যতম ট্রাম্প কার্ড। সেই মর্যাদাও রেখেছেন নায়িকা। টলি মহলের একটা বড় অংশ মনে করেন, ভাল পারফর্ম করেছেন তনুশ্রী।

অনন্যা

দীর্ঘদিন পর অনন্যাকে বড়পর্দায় দেখলেন দর্শক। সৌজন্যে পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘টোপ’। বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে প্রশংসিত ছবিটি। অনন্যা সবসময়ই আলাদা ধরনের ছবিতে কাজ করেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে তাঁর মতো অভিনেত্রীর কাছ থেকে দর্শকরা আরও বেশি ছবি আশা করেন।

প্রিয়ঙ্কা সরকার

ব্যক্তিজীবনে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রিয়ঙ্কার। রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘ প্রেম, বিয়ে ভেঙেছে। ছেলে সহজ এখন তাঁর প্রায়োরিটি। ডিভোর্স হওয়ার পরই কাজের সংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে কারণ হিসেবে বলেন ইএমআইয়ের প্রেশার! বছরের প্রথমার্ধে তাঁকে লিড রোলে তেমন ভাবে দেখেননি দর্শক। বরং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রিয়ঙ্কার হাতে বেশ কিছু নতুন রকমের কাজ রয়েছে। দেখা যাক, কতটা দর্শকদের মন জয় করতে পারেন তিনি।

ইন্দ্রাণী দত্ত

দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফিরেছেন ইন্দ্রাণী দত্ত। আনন্দবাজারকে নায়িকা জানিয়েছিলেন, ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে ব্যবহার করতেই পারত, কিন্তু করেনি। তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ইন্দ্রাণীর। দ্বিতীয় ইনিংসে ফের পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে তাঁর একটা ছবি। কিন্তু আগের মতো সাফল্য কি পাবেন? সে উত্তর দেবে সময়।

কৌশানি মুখোপাধ্যায়

অভিনয় জগতে সদ্য পথ চলা শুরু করেছেন কৌশানি মুখোপাধ্যায়। বছরের প্রথম ছ’মাসে ঝুলিতে একটাই ছবি। সিনে মহলের একটা বড় অংশের মতে, নায়িকাকে অনেক কিছু এখনও শিখতে হবে। দেখা যাক, পরের ছ’মাসে তাঁর পারফরম্যান্স গ্রাফ কেমন হয়?

নুসরত ফারিয়া

বাংলাদেশে নুসরত ফারিয়া প্রবল জনপ্রিয়। ঢালিউডের ছবির পাশাপাশি টলিউডেও একের পর এক ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। বাবা যাদবের পরিচালনায় ‘বস ২’ তাঁর চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। যদিও এ ছবির একটি গানে নুসরতের পোশাক নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়। পরে সেই গানের কথা বদলে দেওয়া হয়। তবে নুসরতের কাজ ভাল লেগেছে অনেকের। কিন্তু তাঁকে আরও বেশি ছবিতে দেখতে আগ্রহী দু’দেশের দর্শক।

গোটা লিস্ট থেকে সবচেয়ে আলোচিত পাঁচ নায়িকাকে বেছে নিতে হলে যাঁদের নাম আসবে তাঁরা হলেন পাওলি দাম, সোহিনী সরকার, জয়া আহসান, মিমি চক্রবর্তী ও রুক্মিণী মৈত্র। এই ছ’মাসে ইন্ডাস্ট্রিতে এঁদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। গুগল ট্রেন্ডও সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

প্রথম ছ’মাসে পশিচমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি গুগল সার্চ হয়েছে পাওলি দামকে নিয়ে। লাল রঙের গ্রাফটি পাওলির। তারপরই সোশ্যাল সার্চে উঠে এসেছেন রুক্মিণী মৈত্র। বেগুণি রঙের গ্রাফটি তাঁর। ডেবিউ ছবিতেই তাঁকে নিয়ে দর্শকদের উত্সাহ তুঙ্গে। অবশ্য কোনও কোনও মহলের ব্যখ্যা, দেবের বান্ধবী বলে রুক্মিণীকে নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সাধারণ মানুষের। গুগল সার্চে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সোহিনী। নীল গ্রাফটি তাঁর। চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন মিমি। সবুজ গ্রাফটির মাধ্যমে মিমির গুগল সার্চের হিসেব পাওয়া গিয়েছে। আর পঞ্চম স্থানে রয়েছেন জয়া আহসান। হলুদ গ্রাফ বুঝিয়ে দিচ্ছে জয়ার গুগল সার্চের রেজাল্ট।

তবে এ সব তো গুগল ট্রেন্ডের রেজাল্ট। শেষ বিচারের ভার দর্শকের।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট