কোহলির ‘বিরাট’ হয়ে ওঠার গল্প

কোহলির ‘বিরাট’ হয়ে ওঠার গল্প

বিশ্ব ক্রিকেটের মহাতারকা। ভারতের মাইলস্টোন ম্যান। রেকর্ড ব্রেকিং এবং রেকর্ড মেকিং ম্যান বিরাট কোহলির জন্মদিন আজ। এই শুভক্ষণে ব্রেকিংনিউজের পাঠকদের জন্য তাঁর উঠে আসার গল্পটা তুলে ধরবো।

ক্রিকেটের এই বিস্ময় বালকের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বরে দিল্লিতে পাঞ্জাব পরিবারে। বিশাল ভারতী পাবলিক স্কুলে শিক্ষা জীবন শুরু তাঁর। কোহলির বাবা প্রেম কোহলি পেশায় আইনজীবী এবং মা সারোজ কোহলি গৃহিণী।

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে পদচারণা শুরু করেন দিল্লির ক্ষ্যাপাটে ব্যাটসম্যান। যার আগ্রাসনের সামনে বারবার নতজানু মানতে বাধ্য হয়েছেন গ্রহের সেরা বোলাররাও।

নিজের ব্যাটিং স্কিল এবং টেকনিকের জন্য গ্রেট খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁকে তুলনা করা হয়। মনে করা হয় শচীন টেন্ডুলকারকে যদি কেউ টপকাতে পারেন তিনি কোহলি-ই। ওয়ানডে, টেস্ট, টি-টোয়েন্টি; ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন কোহলি।

১৯৯৮ সালে পশ্চিম দিল্লি ক্রিকেট একাডেমিতে রাজকুমার শর্মার অধীনে ক্রিকেটের হাতখড়ি। যদিও ৩ বছর বয়সেই নাকি ক্রিকেট ব্যাটের সঙ্গে তাঁর সখ্য তৈরি হয়েছিল বলে জানান পরিবারের লোকজন।

জুলাই ২০০৬ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের জন্য নির্বাচিত হন কোহলি। সেবার দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরে যান তিনি। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ৩ ম্যাচে কোহলির ব্যাটিং গড় ছিল ১০৫।

আর ৩ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৪৯। তাঁর পারফরম্যান্সে ভারত ওয়ানডে এবং টেস্ট দুই সিরিজই জেতে। কোহলির প্রতিভায় তখনকার ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯’র কোচ লাল চাঁদ রাজপুত মুগ্ধ হন। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে যান কোহলিরা। সেখানে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯’র বিপক্ষে কোহলির টেস্ট গড় ছিল ৫৮ এবং ওয়ানডে গড় ছিল ৪১ দশমিক ৬৬।

নভেম্বর ২০০৬ সালে ১৮ বছর বয়সে দিল্লির হয়ে তামিল নাড়ুর বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু করেন কোহলি। প্রথম ম্যাচে ১০ রানে আউট হলেও কর্ণাটকের বিপক্ষে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। ওই ম্যাচের ঠিক আগের দিনই  ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর কোহলির বাবা মারা যান। কোহলি আউট হওয়ার পর মাঠ থেকে সোজা বাবার অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যান।

২০০৮ সালে ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন কোহলি। সেবারই মালয়েশিয়ায় আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৪৭। একই বছরের আগস্টে ভারতীয় এক দিনের জাতীয় দলে ডাক পান বিরাট কোহলি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সফরে ভারতের দুই ওপেনার শচীন এবং শেহওয়াগ চোটে থাকায় আকস্মিকভাবেই দলে জায়গা পান তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ২০০৮ সালে প্রথম ম্যাচ খেলেন কলকাতার হয়ে। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি চোটে পড়লে অধিনায়কের দায়িত্ব পান কোহলি এবং ৪ নম্বর ভারতীয় হিসেবে অধিনায়কত্ব পাওয়ার প্রথম ম্যাচে শতক করেন। ওই সিরিজেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন ধোনি, কোহলি তাঁর জায়গা পাকা করে নেন।

এই বছরটা দারুণ কাটছে বিরাট কোহলির। সদ্য ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই দ্রুততম ১০ হাজার রানের রেকর্ড করে ফেলেছেন। প্রথম তিন ম্যাচে টানা তিন সেঞ্চুরিও করেছেন প্রথম ভারতীয় হিসেবে।

টেস্টে ১০ ইনিংসে করেছেন ১০৬৩ রান। গড় ৫৯.০৫। তার মধ্যে রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের জো রুট রয়েছেন তাঁর পরেই। ১০ ইনিংসে তাঁর রান ৭১৯। গড় ৪২.২৯। এবং তাঁর ঝুলিতে এসেছে মাত্র একটিই সেঞ্চুরি।

ওডিআইতে তো তিনিই সেরা। এই বছরটা তাঁর ধারে কাছে কেউ নেই। ১৪ ম্যাচে এখনও পর্যন্ত বিরাট কোহলির রান ১২০২। ক্রিকেট বিশ্বে তাঁর দখলেই রয়েছে এই বছরের সর্বোচ্চ রান। তার মধ্যে রয়েছে ছয়টি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি।

ওয়ানডেতে কোহলির কাছাকাছি রয়েছেন আর এক ভারতীয়ই। তিনি রোহিত শর্মা যাঁর কাছে এই বছর রয়েছে ১৯ ম্যাচে ১০৩০ রান। গড় ৭৩.৫৭।

২০১৩ সালে বলিউডকন্যা আনুশকা শর্মার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়া শুরু করেন। শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপণের শুটিংয়ে তাদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল।দীর্ঘদিনের প্রেমের অধ্যায় চুকিয়ে ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর বিয়ে করেন কোহলি-আনুশকা। দুই ভুবনের এই জুটি বিরাস্কা নামেও পরিচিত।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট