ক্ষমতার সহজ হস্তান্তর চায় শরিফের দল

ক্ষমতার সহজ হস্তান্তর চায় শরিফের দল

নওয়াজ শরিফের জায়গায় পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভাই শাহবাজ শরিফের নির্বাচন এক প্রকার নিশ্চিত। তার আগে, মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট মামনুন হাসান। অন্তর্বর্তিকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রাক্তন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী শাহিদ খকন আব্বাসিকে নিয়ে ভোটাভুটি হবে সেখানে। আজই মনোনয়ন পত্র হাতে পেয়েছেন আব্বাসি ও তাঁর বিরোধী প্রার্থী শেখ রশিদ। নওয়াজের দল পিএমএল-এন(পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ)-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে পার্লামেন্টে। ফলে আব্বাসির ক্ষমতায় আসতে কোনও বাধা নেই বলেই মনে করছেন পাক রাজনীতিবিদরা।

পানামা কেলেঙ্কারি মামলায় শীর্ষ আদালতের রায়ে গত শুক্রবার পদ হারিয়েছেন নওয়াজ শরিফ। গত কালই জানা গিয়েছিল, তাঁর জায়গায় আপাতত দায়িত্ব সামলাবেন শাহিদ খকন আব্বাসি। শাহবাজ আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য না হওয়ায় তিনি দলীয় ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী পদে না আসা পর্যন্ত ৪৫ দিন ক্ষমতায় থাকবেন প্রাক্তন পেট্রেলিয়াম মন্ত্রীই। এ দিকে, নওয়াজের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভাই শাহবাজ শরিফের নির্বাচন একপ্রকার নিশ্চিত। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ ক্ষমতা ছাড়লে তাঁর জায়গায়  কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে হিসেবনিকেশ। দলীয় সূত্রে খবর, পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসতে পারেন তাঁর ছেলে হামজা শাহবাজ।

পিএমএল-এন সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্জাবের ক্ষমতায় কে আসবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নওয়াজই। এক বছরের মাথায় দেশে সাধারণ নির্বাচন। ফলে এই মুহূর্তে পঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণ হারাতে চায় না পিএমএল-এন। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘পঞ্জাবের গদিতে শাহবাজ তাঁর ছেলেকেই বসাতে চান। তবে হামজা এই পদের জন্য উপযুক্ত কি না তা ঠিক করবেন নওয়াজই।’’ এই নেতা আরও বলেন, ‘‘যে-ই পাক পঞ্জাবের ক্ষমতায় আসুন, তাঁকে শাহবাজের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই যে কোনও ‘বহিরাগতের’ তুলনায় ছেলের সঙ্গে বোঝাপড়ায় অনেক বেশি সুবিধা হবে শাহবাজের। একই সঙ্গে তিনি চাইবেন, এই সুযোগে প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুক হামজা।’’ তবে ক্ষমতায় যে-ই আসুন না কেন পাক কূটনীতিকরা মনে করছেন, পঞ্জাবের রাশ পরোক্ষে থাকবে শাহবাজেরই হাতেই।

এ দিকে, রবিবার তাঁর সরকারি বাসভবন ফাঁকা করে দিয়েছেন নওয়াজ। রাওলপিন্ডির মুরির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী কুলসুম, মেয়ে মরিয়ম ও মা। দলের তরফে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার অন্তর্বর্তিকালীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগে পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তিনি। এ দিন তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিদায় জানান মন্ত্রী ও আমলারা।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট