খালেককে সহায়তা করার কোন মানসিকতা নেই: মঞ্জু

খালেককে সহায়তা করার কোন মানসিকতা নেই: মঞ্জু

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী তালুকদার আব্দুল খালেকের পাশে থেকে কোন ধরণের সহায়তা করার কোনো মানসিকতা নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

আজ খুলনা বিএনপি কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন। মঞ্জু বলেন, পত্রিকায় দেখলাম খালেক সাহেব বলেছেন উনি আমাকে নিয়ে কাজ করবেন। ধিক তাকে। সে একজন ডাকাত, ভোট ডাকাত। প্রধান ভোট ডাকাত।

তিনি এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের কারো পাশে থেকে সহায়তা করার কোন মানসিকতা আমার নেই। তালুকদার আব্দুল খালেকের এই বক্তব্য আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলও প্রত্যাখান করছি।

তিনি বলেন, শেম! উনি জানেন না আমরা কি ধরণের রাজনীতি করি। এ নির্বাচন সামনে রেখে আমি সব কথা বলেছি নির্দিধায় ও সাহসিকতার সঙ্গে।

মঞ্জু বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে খুলনা বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করবে গত ১৫ দিনের বক্তব্যে আমি তা স্পষ্ঠ করেছি। এই নির্বাচন ছিল একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ। সেই আন্দোলনে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে খুলনা শহরে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য দলের চেয়ারপরসনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা। নির্বাচনে হার-জিত বড় কথা নয়।

আওয়ামী লীগ পন্থী সাংবাদিকদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খুলনার সচেতন সাংবাদিক সমাজ সমাজের কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারা জাতির বিবেক। কিন্তু গতকাল তাদের ভূমিকা দেখেছি। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে তাদের ফুসুর ফাসুর আলাপ এবং গাটছাড়া সম্পর্ক আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি। ঘৃণায় আমার মাথা হেট হয়ে যায়। আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অনেক বন্ধু ও সহপাঠী সাংবাদিকতা পেশায় আছে। আমি নিজেও ২ বছর সাংবাদিকতা করেছি। ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে সফল করতে সচেতন সাংবাদিক সমাজের ব্যানারের সাংবাদিকদের কর্মতৎপরতা দেখে আমার কষ্ট লাগে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১০৫ টি ভোট কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। বাকী ৪৫ টি কেন্দ্রের যেখানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে তদন্ত করে সেগুলোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারাগারে আটক আমাদের ২০০ নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনকারী পুলিশ কর্মকর্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তার বিচার করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েমকারী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে দাড়াতে হবে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনকে সফল করতে হবে। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সফল করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ডের সিদ্ধান্ত হলÑ সরকারের দানবীয় চেহারা দেশবাসীকে দেখাতে হবে। তাই প্রত্যেকটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে মঞ্জু বলেন, আমি আগেই বলেছি এটা ভোট ডাকাতির ফলাফল। অবশ্যই আমি এই ফলাফল প্রত্যাখান করি। নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়নি, এখন আপনি মাঠ ছেড়ে দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মাঠ থেকে যাইনি। এটা আন্দোলন সংগ্রামের নির্বাচন। এই প্রতিবাদ চলতে থাকবে। আমরা এই ষড়যন্ত্র ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি।

একই সঙ্গে তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচন কভারের জন্য আগত সাংবাদিকদের সাহসী ভুমিকার জন্য এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়ার জন্য খুলনাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট