খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না- মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না- মির্জা ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলা প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পুলিশের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই শেষ হয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অনশন কর্মসূচি বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। পরে বিএনপি নেতারা জানান ৪টা পর্যন্ত তারা অনশন করবেন। বেলা ১২টার দিকে অনশন কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের পক্ষ থেকে বন্ধের নির্দেশ আসলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুর ১টায় কর্মসূচি শেষ করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল। পুলিশের নির্দেশে তা এখনই শেষ করছি। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমার আহ্বান আপনারা ডিস্টার্ব করবেন না’।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার। অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, সরকার খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে আবার একটি পাতানো নির্বাচন করতে চাইছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগকে বলতে চাই খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার আগুন নিয়ে খেলা করছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করেই আমরা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে ২০ দলীয় জোট।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘ভুয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা এ অন্যয় রায় মানি না, এটি জনগণের রায় না। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনব। তাঁকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিচারের মানদণ্ড যেখানে দাঁড়িয়েছে তাতে বিচারকদের ক্যালকুলেটর দেয়া দরকার। কারণ দুই কোটি টাকার জন্য পাঁচ বছরের সাজা হলে ১৪ কোটি টাকার জন্য কতদিন সাজা হবে। তাই এখন থেকেই ক্যালকুলেটর ব্যবহার শুরু করেন।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে ছেড়ে দিন, আমাদের সবাইকে নিয়ে যান। আমরা লক্ষ নেতাকর্মী জেলে যেতে প্রস্তুত আছি।’ পুলিশকে উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘আমাদের টিয়ারশেল না মেরে, লাঠিপেটা না করে কারাগারে নিয়ে যান। আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দিন।’

অনশনে ২০ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীরবিক্রম) বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে শেখ হাসিনার সরকার রেহাই পাবে না। খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাঁকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। তারা চায়, বিএনপি ও ২০ দলকে বাইরে রেখে ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতা দখল করতে। কিন্তু সেটি আর করতে দেয়া হবে না।’

এ ছাড়া অনশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক