খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে চায় বিএনপি

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে চায় বিএনপি

বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা খরচ বিএনপি বহন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইচ চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

চিকিৎসার জন্য গত ৩ দিন ধরে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) আনার চেষ্টা করছে কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেখানে আসতে রাজি নন বিএনপির চেয়ারপারসন। এমন পরিস্থিতিতে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী কোনো বন্দিকে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার বিধান নেই। এখানে খরচেরও একটা ব্যাপার আছে।

কারা মহাপরিদর্শকের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রীর উপযুক্ত চিকিৎসা চাই। আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই যে, প্রয়োজনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমূদয় ব্যয় আমাদের দল বহন করবে। কাজেই কালবিলম্ব না করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হোক।’

এ ব্যাপারে লিখিত দাবি জানানো হবে কি না?— এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে একটা লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরাও আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবেই জানাচ্ছি, খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতাল ইউনাইটেডে এনে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। চিকিৎসা ব্যয় দলের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।’

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা রোগে ভুগছেন। এটা জানার পরেও তাকে আরো অসুস্থ করে ফেলার জন্য পরিত্যক্ত জেলখানায় একমাত্র বন্দি হিসেবে নির্জনে রাখা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার স্বাস্থ্য অবনতির খবর গোপন রাখার অপচেষ্টা হয়েছে।’

‘এসব ঘটনায় স্পষ্টই বোঝা যায় ক্ষমতাসীন সরকার তাদের সব চেয়ে শক্তিশাল প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসার ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে’— বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আইজি প্রিজন গণমাধ্যমকে বলছেন, কারাবিধি অনুযায়ী প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তার এই বক্তব্য থেকে দেশনেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের অনীহার বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে।’

‘অথচ ওয়ান ইলেভেনের সময় ১ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। আর তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারের অনুমোদন ও অর্থ সংস্থানের বিষয়ে এত দিনেও সিদ্ধান্ত না হওয়া রহস্যজনক ও নিন্দনীয়’— বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

গত ৫ জুন দুপুর ১ টার দিকে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে মাটিতে পড়ে যান খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি ৬/৭ মিনিট আনকনসাস ছিলেন— এমনটি জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকি জানান, এটা মাইল্ড স্ট্রোক ফর্মে ট্রানজিয়েন্ট ইশ্চকেমিক অ্যাটাক। এটা বড় ধরনের স্ট্রোকের পুর্ব লক্ষণ।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট