খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়: মেডিকেল বোর্ড

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়: মেডিকেল বোর্ড

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাররিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন। দুপুরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ে বিষয়ে এ কথা জানান তিনি।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, খালেদা জিয়া নতুন করে  অসুস্থ হয়নি, তবে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড মনে করছে, হাসপাতালে ভর্তি হলে খালেদা জিয়াকে আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সে কারণেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গতকাল পুরান ঢাকার কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন চিকিৎসকরা। বিএনপির পক্ষ খালেদা শাররিক অবস্থা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে পাঁচ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। ওই দিনই তাকে আদালত থেকে নেওয়া হয় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত সাত মাসের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে সাজা ভোগ করছেন।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকেই বিএনপি দাবি করে আসছে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তার সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি করা হয়।

এদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার একাধিক শুনানির তারিখ পড়লেও সেসব শুনানিতে শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে হাজির হননি খালেদা জিয়া। সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ওই আদালত স্থানান্তর করা হয় কারাগারে। ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারেই বসে আদালত। সেদিন আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শারীরিক অবস্থার কারণে তার পক্ষে আর আদালতে হাজির হওয়া সম্ভব না। আদালত যা খুশি সাজা দিতে পারেন। পরে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে আদালত বসলেও হাজির হননি খালেদা জিয়া।

এর মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড কিংবা অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তির কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই অনুযায়ীই বিএসএমএমইউয়ের পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে মেডিকেল বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে রাখার দাবি করা হলেও সেই দাবি মানা হয়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট