‘খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন’

‘খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন’

‘দেশ এখন জুলুমের গ্যাসচেম্বারে পরিণত হয়েছে। অবৈধ সরকারের অন্যায় আর জুলুমের শিকার হয়ে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাকে সব অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি তাকে সুচিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে না’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবৈধ সরকার দেশের রাজনীতিকে প্রতিহিংসাপরায়ণ ও সংঘাতময় করে তুলেছে মন্তব্য করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আইনের যথেচ্ছ অপপ্রয়োগের দ্বারা সরকার বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে উম্মাদ হয়ে পড়েছে। আমি ঈদের আগেই সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি এবং তার সুচিকিৎসার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলাগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিনা চিকিৎসায় মরণাপন্ন অবস্থা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক কোনক্রমেই শিমুল বিশ্বাসকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করছেন না। নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএসএমএমইউ-এর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে ঐ মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে। এই কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সমাজের অগ্রগণ্য মানুষরাও বিম্মিত হয়েছে তারা যা পারেনি শিশু-কিশোররা চোখে আঙুল দিয়ে সেটা করে দেখিয়েছে।’

রিজভী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানি ও সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় প্রায় শ’খানেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ওই মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে। তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এরপর তাদের পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়।

‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শিশু-কিশোররা পথ দেখিয়েছে। কিন্তু এখন আন্দোলনরত শিশু-কিশোররা যে পথ দেখছে তাতে তারা প্রতিদিনই শিহরিত হয়ে উঠছে। তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতন করা হচ্ছে, এরপর পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়। মুখে যাই বলুন, সরকার প্রধান শিশু-কিশোরদের সাথে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘অভিভাবকরা বাচ্চাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত, ভীত, শিহরিত। এখন শুধু ছাত্ররাই নয়, ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না আটক ও জুলুমের করালগ্রাস থেকে। গোয়েন্দা পুলিশ একটার পর একটা ছাত্রী আটকের লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এই জালিম সরকারের হাত থেকে বাঁচতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী ও সমর্থনকারী নারীরাও রেহাই পাচ্ছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট