খাশোগিকে হত্যার নির্দেশদাতাদেরও বিচার দাবি হেতিসের

খাশোগিকে হত্যার নির্দেশদাতাদেরও বিচার দাবি হেতিসের

ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক জামাল খাশোগির লাশ ফেরত চেয়েছেন তার বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। খাশোগির লাশের তথ্য প্রকাশের জন্য তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে দাবি জানান। আর খাশোগির হত্যাকারীদের পাশাপাশি হত্যার নির্দেশদাতাদেরও শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। সোমবার লন্ডনে খাশোগির আয়োজনে শোকসভায় আবেগঘন বক্তব্যে এসব কথা বলেন হেতিস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

তুর্কি বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছানির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর  সৌদি জানায়, কনস্যুলেটের মধ্যেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবি ছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলবশত তার মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা মিডলইস্ট মনিটর ও আল শার্ক ফোরাম জামাল খাশোগিকে নিয়ে সোমবার লন্ডনে একটি শোকসভার আয়োজন করে। ওই সভায়ই বক্তব্য দেন তার বাগদত্তা হেতিস। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তার (খাশোগির) লাশ কোথায় আছে সৌদি আরব তা জানে। তাদের আমার দাবির জবাব দেওয়া উচিত। এটা শুধু একজন বাগদত্তার দাবিই নয়, এটা একটি মানবিক ও ইসলামি দাবিও’।

হেতিস চেঙ্গিস তুরস্কের বাইরে এই প্রথম কথা বললেন। খাশোগির হত্যাকাণ্ড যাতে ধামাচাপা না পড়ে সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি। হেতিস বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার প্রিয় জামালকে হত্যা করেছে শুধু তারাই নয়, যারা এর সংগঠন করেছে ও যারা নির্দেশ দিয়েছে, সবার বিচার চাই। এটা শুধু আমারই দাবি নয়। লাখ লাখ মানুষ এই দাবি করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমি রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা দেখতে চাই’।

চারমাস আগে তুরস্কের শিক্ষক হেতিসের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন করেন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার সময় হেতিসকে বাইরে রেখে যান খাশোগি। সেই কথা মনে করে হেতিস বলেন, ‘আমি যদি জানতাম কী ঘটতে যাচ্ছে, তাহলে আমি নিজেই কনস্যুলেটে ঢুকতাম। যদি আমি শুধু জানতাম সেখানে রক্তপিপাসু লোকজন আছে, কনস্যুলেটের মধ্যে শয়তান লোকগুলো আমার জামালের জন্য অপেক্ষা করছে, তাকে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যা করা দরকার তার সবই আমি করতাম।’

হেতিস বলেন, খাশোগির মৃত্যুতে তার জীবনে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বক্তব্যে খাশোগিকে সৌদি আরবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য হওয়া ‘শহীদ’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। খাশোগি হত্যাকাণ্ডে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে হেতিস বলেন, ‘সারাবিশ্বের মানুষ আমার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি অনেক দেশের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট।’  তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সত্য উন্মোচন করা আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত। আমার বাগদত্তার হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া তার উচিত হবে না। অর্থ যাতে আমাদের বিবেককে কলঙ্কিত করতে না পারে আর আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে যেন আপস করতে না হয়।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট