খাসোগি হত্যা নৃশংস, বিশ্বের জন্য সৌদিতে স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ: নেতানিয়াহু

খাসোগি হত্যা নৃশংস, বিশ্বের জন্য সৌদিতে স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ: নেতানিয়াহু

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে যা ঘটেছে তা নৃশংস। কিন্তু আরও বড় সমস্যা হলো ইরান! বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া ও গ্রিসের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘ইস্তাম্বুল কনস্যুলেটে যা হয়েছে তা ছিল নৃশংস। এটি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু পাশাপাশি আমি বলব, বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের জন্য সৌদি আরবের স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ এ খবর দিয়েছে ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎস।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় (যেখানে কলাম লিখতেন খাসোগি) সম্প্রতি খবর প্রকাশ করেছে, খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ভীষণ চাপে পড়ে গেলে মার্কিন প্রশাসনে যে কয়েকটি দেশের নেতা তার পক্ষে কথা বলেন তাদের মধ্যে ছিলেন নেতানিয়াহু ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ সিসি। এই খবর প্রকাশের পরই নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন নেতানিয়াহু।তিনি বলেন, ‘উভয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপায় অবশ্যই বের করতে হবে। কারণ, বড় সমস্যা হলো ইরান।

আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপে ইরান ভয়াবহ যেসব কর্মকাণ্ড করছে তা যেন অব্যাহত না রাখতে পারে।’তিনি আরও বলেন, ‘প্যারিস ও কোপেনহেগেনে দুইটি সন্ত্রাসী হামলা আগেভাগে উন্মোচন করতে আমরা সহায়তা করেছি। এর দায়িত্বে ছিল ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘ইরানকে থামানো আমাদের নিরাপত্তা এজেন্ডার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ইসরাইল নয়, ইউরোপ ও বিশ্বের জন্যেও।’নেতানিয়াহুর আগে একজন ইসরাইলি কর্মকর্তাও শুক্রবার এ ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন। জ্বালানী মন্ত্রী ইউভাল স্টেইনিৎস বলেন, খাসোগির হত্যাকাণ্ড নিন্দার্হ। কিন্তু অভিন্ন শত্রু ইরানের বিরুদ্ধে রিয়াদের সঙ্গে সহযোগিতা করাটা ইসরাইলের অগ্রাধিকার।

খাসোগিকে হত্যার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বইলেও ইসরাইল নিশ্চুপ ছিল। জ্বালানী মন্ত্রীর ওই মন্তব্যই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক ইসরাইলি প্রতিক্রিয়া। ওই মন্ত্রী এক রেডিও অনুষ্ঠানে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ড সব দিক থেকেই নিন্দনীয়। কিন্তু, তার ভাষ্য, ‘আমরা এখন এমন এক হুমকির মুখোমুখি যা ভবিষ্যতে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। আর তা হলো পারমাণবিক শক্তিধর ইরান, সন্ত্রাসবাদের হুমকি। সৌদি আরব সহ আরব রাষ্ট্রগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিস্তার ও পারমাণবিক হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের মিত্র হয়ে উঠেছে।’ প্রসঙ্গত, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা অস্বীকার করে ইরান।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট