‘গণতান্ত্রিক ধারায় সকলেরই অধিকার আছে ঐক্যবব্ধ হওয়ার’

‘গণতান্ত্রিক ধারায় সকলেরই অধিকার আছে ঐক্যবব্ধ হওয়ার’

নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় সকলেরই অধিকার আছে ঐক্যবব্ধ হওয়ার। দেশে এখন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত আছে।

তাদের সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিরোধী যে জোট হয়েছে তার সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধী, বঙ্গবন্ধুর খুনে মদদদাতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকরা রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ ছোট হলে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ থাকলে সমস্যা কোথায়?

আগামী নির্বাচন প্রশ্নে তিনি বলেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে একটি সুষ্টু নির্বাচন করতে সক্ষম হব। নির্বাচন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত নির্বাচনের আগে আমরা সব দলকে সাথে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমাদের আহ্বান সত্ত্বেও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি সাড়া দেয়নি। এবার নির্বাচনকালীন সরকার দরকার আছে কিনা, সেটা দেখা যাবে।

নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধী দলগুলো চাইলে হবে, না হলে হবে না। তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।

সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাকে যে বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা ছোট করবো সেটা খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে কি সমস্যা আছে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ছোট মন্ত্রিসভা ও তখনকার বিরোধী দলকে নিয়ে সব দলের সরকার গঠনের কথা বলেছিলাম। এখন এটা দরকার আছে কিনা সেটা দেখা যাবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তা সত্ত্বেও যাদের প্রতিনিধিত্ব সংসদে আছে তাদের সবাইকে নিয়েই কিন্তু আমরা মন্ত্রিসভা গঠ্ন করেছি। সেই মন্ত্রিসভা নিয়েই আমরা চলছি। আগে কিন্তু এটা ছিল না, আগে শুধু আমাদের ছিল। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আপনারা যেভাবে চান, সেভাবে আমরা প্রস্তুত আছি।’

তবে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য ছোট মন্ত্রিসভার সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘এখন (মন্ত্রিসভায়) কাটছাঁট করলে তো এক ধরনের সমস্যাই হবে। আমাদের এত প্রজেক্ট আছে। এরই মধ্যে আমরা এত প্রজেক্ট পাস করেছি, সেসব কাজ শেষ করা দরকার। এখন কয়েকটি মন্ত্রণালয় যদি একজনের হাতে দিই তাহলে তিনি পারবেন কিনা, দুই-তিন মাসের মধ্যে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে। এখন কাজগুলো করতে গেলে কাউকে সরিয়ে দিলে কাজগুলো ব্যাহত হবে কিনা, এ সমস্যাটাই রয়ে গেছে। আমি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই। এবং সবাই যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ইত্যিাদি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে। আমি ওই সব দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তো কোনও পরিবর্তন করে না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা আলাপ-আলোচনায় আমি তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারা তো বলেছে, তেমনটা করার তো কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই… আমরা যেমন থাকি তেমন থেকেই তো নির্বাচন করি। এখন দেখা যাক কী হয়? যদি ডিমান্ড করে অপজিশন তখন করবো। আর না করলে কিছু করার নেই।’

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন যুক্তরাজ্যে ব্যার-অ্যাট-ল পড়তে গিয়ে ইংরেজদের খাবার খাওয়া শিখলেও ইংরেজদের ভদ্রতা শিখতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সেই আমলে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়া কম কথা না। কিন্তু তিনি গিয়ে শিখলেন ইংরেজদের খাবার খাওয়ার কায়দা। ইংরেজ খাবার ছাড়া তিনি খেতে পারতেন না। তার অবস্থাটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পরে ময়ূর হওয়ার মতো। তিনি ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেননি, অ্যাটিকেট শিখেননি, কথা বলা শিখেননি। এটাই হলো বাস্তবতা, এই হলো সেই লোক।

গত ১৬ অক্টোবর বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের টক শো’তে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ আখ্যা দেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। এ প্রসঙ্গে একজন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নারী সাংবাদিককে তিনি যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন তা অত্যন্ত জঘন্য, বাজে। তার বাচনিক ভঙ্গি, অ্যাটিচিউড— সবই খারাপ। তার কাছে কী আশা করব? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তো পাকিস্তানের দালালি করেছেন। ইত্তেফাকের সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন চৌধুরীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল রাজাকাররা। এর জন্যও তিনি কম দায়ী নন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনি মোশতাক যে দল করেছিল, সেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্যারিস্টার মঈনুলের। উনি কিন্তু পরে একটা দলও করেছিলেন। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি যারা, তাদের নিয়ে তিনি দল করেছিলেন। ইত্তেফাকেও তো মার্ডার করে ভাইকে (বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের যে জমি, সেটা নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। তাদের জমি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে মামলা আছে। আপনারা সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে দেখেন। তার আসলে গুণের শেষ নেই।

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সুসম্পর্কের সুবাদে মঈনুল হোসেনের জীবনের অনেক তথ্যই জানেন বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উনি সেই আমলে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। এইটা তো কম কথা না। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, উনাকে আমরা মানিক কাকা বলে ডাকতাম। তো কাকা তাকে ব্যারিস্টারি পড়তে পাঠালেন। তিনি ব্যারিস্টারি পাস করে সাহেব হয়ে ফিরলেন। তিনি আর বাংলাদেশি খাবার খেতে পারেন না, তার সাহেবি খাবার দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, মানিক কাকা মায়ের কাছে এসে আফসোস করেন। বলেন, ছেলে তো ইংরেজ খাবার ছাড়া কিছু খায় না। তো তার জন্য তখন আলাদা বাবুর্চি রাখতে হলো। সেই যুগে মানিক কাকা ছেলের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাবুর্চি রাখলেন। ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে মঈনুল হোসেন ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেননি, অ্যাটিকেট শিখেননি, কথা বলা শিখেননি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসব কথা সবার জানার কথা না। আরও জানি, এখন বলব না, পরে বলব।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবনে বিকাল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সৌদি সফর বিষয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট