গণমাধ্যমে খবরের সঙ্গে উন্নয়নের খবরও তুলে ধরার জন্য মালিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

গণমাধ্যমে খবরের সঙ্গে উন্নয়নের খবরও তুলে ধরার জন্য মালিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

দেশের গণমাধ্যম সমাজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শিক্ষণীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পরিবেশন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বেসরকারি টেলিভিশনের মালিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সারাদেশে উন্নয়ন করছি। অন্যান্য খবরের সঙ্গে এ উন্নয়নের খবরও তুলে ধরার জন্য বেসরকারি টেলিভিশনের মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনোদনের জন্য মানুষ টেলিভিশন দেখে। এছাড়া খবরও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তাই গণমাধ্যমগুলোর লাভের দিকগুলো যেমন দেখবেন তেমনি সমাজের ভালো মন্দও দেখবেন।

‘‘আমি বিশ্বাস করি, রেডিও এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও শক্তিশালী হবে।’’

 সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণার পাশাপাশি মানুষের জন্য শিক্ষনীয় ও করনীয় বিষয়গুলোর প্রচারণা বাড়াতে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বৈশ্বিক চাহিদা ও অগ্রগতির বিষয়টি মাথায় রেখে বেসরকারি খাতে ৩টি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেয় সরকার। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে দেশের শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এখন দেশে ৪১ টি টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রচারে রয়েছে ৩০টি। একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত। যারা জাতিকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা শোনান। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তালমেলাতে জাতিকে সহায়তা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণমাধ্যম এখন একটা শিল্প। তারা যেমন তাদের লাভের দিকটা দেখবে। তেমনি সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্বও রয়েছে। সবাই তাদের কথা শোনে, দেখে। সুতরাং সমাজের জন্য যা শিক্ষনীয়, মানুষের জন্য যা করনীয় গণমাধ্যমে সে বিষয়গুলোর প্রচারণা আরো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করতে হবে।

সরকার প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি সুযোগ সুষ্টি করছে। আবার কিছু সমস্যাও সৃষ্টি করছে। একে ব্যবহার করে নানা ধরণের অপপ্রচার করা যায়। অনেক সময় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়। কিছু মানুষের মানসিকতা বা প্রবৃত্তিই থাকে ক্ষতি করার। তাদের যেন প্রযুক্তি সেবার অপব্যবহার করতে না পারে সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের নানামূখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। সাধারণ মানুষের গায়ে কোনো আঁচ লাগতে দেয়নি। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট