গৃহঋণের অর্থ যাচ্ছে সেকেন্ড হোমে

গৃহঋণের অর্থ যাচ্ছে সেকেন্ড হোমে

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের টাকা নানা কায়দায় পাচার করে বিদেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘হোম লোন অব ব্যাংকস : ট্রেন্ড অ্যান্ড ইমপ্যাক্ ‘ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

তারা বলেন, গৃহঋণের অর্থ চলে যাচ্ছে সেকেন্ড হোমে। আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে কানাডা, সিঙ্গাপুর, ইউএসএ, মালয়েশিয়া এবং সুইজারল্যান্ডে বাস করছে। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে তারা। ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের অর্থ নানা কায়দায় তারা বিদেশে পাচার করে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছে। অথচ এ অর্থ দেশে থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতি আরও চাঙা থাকত।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, গৃহঋণের নানাদিক বিশ্লেষণ করে নীতিমালা প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এ নীতিমালা হলে গ্রাহকরা সহজ শর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণ পাবে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে ঘর। সুতরাং এ খাতে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। তবে এ ঋণ হতে হবে স্বল্পসুদে। এ ঋণ যাতে গ্রামের মানুষ পায় তারও ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গৃহঋণের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে যেসব প্রস্তাব আসছে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো হবে।

বৈঠকে বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, অনেক অসাধু আবাসন ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট তৈরি করে বিক্রি করেছে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন দেয়নি। এর কারণ হচ্ছে, তারা লোন পরিশোধ করছে না তাই ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন দিতে পারছে না। ফলে গ্রাহকরা ফ্ল্যাট কিনেও রেজিস্ট্রেশন পাচ্ছে না। এখানে সরকারের দেখার বিষয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লোন দিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ইনসেনটিভ দিতে হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঋণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে ঋণ নিচ্ছে অথচ নিচের স্তরের কর্মকর্তারা ঋণ পায় না। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এ বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ফ্ল্যাট বা বাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার সময় ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ আছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। অনেক ব্যবসায়ী এবং বাড়ির মালিক ব্যাংক ঋণ নিলেও তা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করে না। এছাড়া গৃহঋণে প্রভিশন ২ শতাংশের স্থলে ১ শতাংশ হলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে আরও উৎসাহবোধ করবে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কান্ট্রি হেড আব্রার আনোয়ার বলেন, গৃহঋণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে উচ্চসুদ বড় বাধা। আগামীতে গৃহঋণে সুদহার আরও কমিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গৃহঋণের সুযোগ দিতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের প্রফেসর এবং ডিরেক্টর মহিউদ্দিন সিদ্দিক, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মো. আলমগীর এবং ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে তারা বলেন, গৃহঋণে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে কম। ২০০৬ সালে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের রেশিও ছিল ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তখন গৃহঋণে খেলাপি ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। কিন্তু গৃহঋণে তা মাত্র ৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়েছে, গৃহঋণের ৮৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ পায় শহরের মানুষ। সেখানে গ্রামের মানুষ পেয়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। আবার ঋণের অধিকাংশ অর্থই বাড়ি নির্মাণের পেছনে ব্যয় হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক