‘গ্রাম-শহর নির্বিশেষে তথ্য-প্রযুক্তি এখন সবার জীবনে প্রভাব ফেলেছে’

‘গ্রাম-শহর নির্বিশেষে তথ্য-প্রযুক্তি এখন সবার জীবনে প্রভাব ফেলেছে’

গানে আছে ‘দূরের মানুষ কাছে এসো’। কিন্তু আমার কাছের মানুষও দূরে সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাড মো. আবদুল হামিদ। বলেছেন, আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি রাষ্ট্রপতি হয়ে মহাসুখে আছি? কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে আমি আগের মতো স্বাধীনভাবে চলতে পারি না, কথা বলতে পারি না, মানুষকে কাছে আসতে দেয়া হয় না। এই যে দেখেন বেষ্টনীর বাইরে কত মানুষ। আমি এসএসএফকে বলেছি, অন্তত সামনের কাপড়ের বেষ্টনী খুলে দিতে। তাহলে অনেকেই আমাকে দেখার সুযোগ পাবেন। আমিও একটু হলেও তাদের দেখতে পারব।

আবেগ আপ্লুত স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন আমাকে সবাই বলতো ভাইট্টা। আর যখন আমি গুরুদয়াল কলেজে পড়তাম তখন আমাকে বলতো ভাইট্টা গাবড়। এখন অবশ্য আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা দেখে মানুষ এসব বলে না। আমি দুইবার রাষ্ট্রপতি হলেও নেত্রকোনায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই প্রথম আসা হলো। কারণ এর আগে হয়তো আমাকে কেউ আনতেও চাননি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

বুধবার নেত্রকোনায় আন্তর্জাতিক লোক সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় এ উৎসবের আয়োজন করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের দর্পণ। সংস্কৃতিই ব্যক্তি, জাতি ও দেশের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। একদিনে হঠাৎ করে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না। দিনে দিনে মানুষের ধর্মীয় সামাজিক বিশ্বাস ও আচার আচরণ, জীবনমান, চিত্ত বিনোদনের উপায় ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে সংস্কৃতি। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু পুরানো ও সমৃদ্ধশালী। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, যতদিন বাংলার আকাশ থাকবে, ততদিন বাংলার সংস্কৃতি থাকবে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, গ্রাম-শহর নির্বিশেষে তথ্য-প্রযুক্তি এখন সবার জীবনে প্রভাব ফেলেছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের ফলে সারা বিশ্ব এখন গ্রামে পরিণত হয়েছে। ফলে আকাশ সংস্কৃতি এখন বাস্তবতা। সারাদেশে আমাদের সংষ্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলোকে সংগ্রহ করে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। আর তাহলেই বহির্বিশ্বে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফুটে উঠবে।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে লোকসংস্কৃতি উসৎবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট লোকগবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার।

বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খান, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান শেলী, দীনেশ চন্দ্র সেনের প্রপৌত্রী দেবকনা সেন, ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সবুজ কলি সেন প্রমুখ।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট