ঘর সাজান লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টে

ঘর সাজান লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টে

ছোট্ট বসার ঘর কিংবা প্রসস্ত ড্রয়িং ইউনিট, লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টই অন্দরসাজের নতুন ট্রেন্ড।

পুরনো বাড়ির বসার ঘরে টানা মাদুর পাতা। লোকজন এলে তার উপর পাতা হত রঙিন চাদর। সাজিয়ে দেওয়া হত বালিশ। কোনও কোনও বাড়িতে আবার থাকত জলচৌকি। বসার জন্যে উত্তম ব্যবস্থা। সোফার প্রচলন তো অনেক পরে। পুরনো যে কোনও জিনিসের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মায়া, মমতা, নস্টালজিয়া। আর তাই সেগুলোই নতুন রূপে আমরা বারবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট যেন সেই মাটিতে বসে আড্ডা মারার রীতিরই আধুনিক সংস্করণ। আসলে সময় বদলেছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলেছে আমাদের লাইফস্টাইল। তার প্রভাব যে অন্দরসাজেও পড়বে, সেটাই তো স্বাভাবিক। আর অন্দরসাজের মূল কথাই তো পরিসর অনুযায়ী সাজগোজ।

তাই ফ্ল্যাটের স্বল্প পরিসরে যে লো লায়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট যথার্থ হবে বলাই বাহুল্য। এগুলো জায়গা যেমন কম নেয়, তেমনই দেখতেও সুন্দর লাগে। তবে ভাববেন না, জায়গা কম হলেই একমাত্র লো সিটিং অ্যারেঞজমেন্ট করা যায়, প্রসস্ত বসার ঘরেও কিন্তু দারুণ মানানসই।

আসলে বসার ঘর মানেই যে সব সময় কার্পেট বিছানো মেঝের উপর মখমলের গদি আঁটা বড় সোফা, ঢাউস সেন্টার টেবল বা দেওয়াল জোড়া সেল্ফ হতে হবে, তার কোনও মানে নেই। বসার ঘর তো আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং জীবনযাপনের পরিচায়ক। দেওয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র যেমন ঘরের স্টাইলের মাপকাঠি, তেমনই ঘরের সাজে ফুটে ওঠে বাড়ির বাসিন্দাদের যাপনচিত্র। ঘরের কোণায় রাখা ছোট্ট টেবল ল্যাম্পই হোক বা মাটিতে করা বসার ব্যবস্থা, সবকিছুই তো আসলে আপনার পছন্দকে প্রতিফলিত করে। তাই নরম গদির সোফার কি প্রয়োজন যদি ছোট্ট বেতের মোড়া বা সেন্টার টেবলেও দিব্ব্যি জুটে যায় পরিচিতদের প্রশংসা। আর এখন তো সেই ট্র্যাডিশনাল মাল্টিইউনিটের চলই নেই। মিনিমালিস্টিক ফার্নিচারই নতুন ট্রেন্ড। স্লিম অ্যান্ড স্লিক অথচ ব্যবহারিক আসবাবের প্রচলনই তাই আজ সব জায়গায় চোখে পড়ে। যদি মনে করেন এগুলো বিশাল দামি, তা হলে ভুল ভাববেন। লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞমেন্ট করতে খরচ বেশি হয় না অথচ দেখতে লাগে দারুণ। সঙ্গে ইউটিলেটেরিয়ান।

লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টে আপনি সাবেকি, আধুনিক দুই ধরনের ফার্নিচারই রাখতে পারেন, তবে দেখবেন তালমেলটা যেন সঠিক হয়। স্টিলের টেবলের সঙ্গে নিশ্চয় বেতের মোড়া খুব একটা ভাল লাগবে না। একইভাবে মাটিতে গদি পেতে যদি বসার ব্যবস্থা বানান, তা হলে ঢাউস একটা কাঠের সেন্টার টেবল অত্যন্ত বেমানান লাগবে। আর যেহেতু বসার ঘর বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই সফিস্টেকেশনের সঙ্গে সঙ্গে কমফর্টের বিষয়টাও অত্যন্ত জরুরি। এমনভাবে বসার ঘর ডিজ়াইন করুন যাতে বাড়ির সদস্যদের পাশপাশি অতিথিরাও  স্বচ্ছন্দ বোধ করেন এবং আপনার স্টাইল সেন্সেরও পরিচয় দেয়। যদি মাটিতে গদি পাততে চান, তা হলে অন্তত দু’ থেকে আড়াই ইঞ্চি মোটা গদি পাতুন। দুটো গদিও রাখতে পারেন। উপরে পেতে দিন রঙিন চাদর ও নানা শেপের কুশন। বেঁটে চেয়ার-টেবলও রাখতে পারেন। ট্র্যাডিশনাল রাজস্থানি কিংবা গুজরাটি কাজ করা লো লহাইটের টেবল-চেয়ারেরও এখন খুব প্রচলন। বেতের লো হাইটের চেয়ার বা মোড়াও দেখতে মন্দ লাগে না। নীচু হাইটের ডিভানও রাখতে পারেন। এতে শুধু জায়গাই বাঁচবে না, প্রয়োজনে কোনও অতিথি এলেও কাজে আসবে। আসলে সবটাই নির্ভর করবে ঘরের আয়তন ও আপনার পছন্দের উপর। আর সঙ্গে প্লেসমেন্টের ব্যপার তো আছেই। আর এখন তো ফোল্ডিং টেবল, চেয়ারও পাওয়া যায়। এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় সরানো সত্যিই মুখের কথা! আর শুধু বসার ঘরে নয়, খাওয়ার জায়গাতেও হতে পারে লো লায়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট।পারেন লম্বা বেঁটে লম্বা টেবল আর ছোট ছোট নীচু চেয়ার তো রাখাই যায়। অনেকটা জাপানি বাড়ির মতো। এতে আপনার ডায়নিং স্পেসও বড় দেখাবে। বারান্দায়, কিংবা ছাদ থাকলেও সেখানেও এরকম বসার ব্যবস্থা করতে পারেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট